শিলিগুড়ি, নিউজ ডেস্ক: এত দিনের চেনা ছবিটাই কি এবার বদলে যেতে চলেছে? কোথাও জল জমে আটকে থাকছে ট্রাক কোথাও বর্জ্য পদার্থ সরাতে বাড়ছে খরচ। আবার কোথাও পচনশীল পণ্য সংরক্ষণের অভাবে বাজারে দামের উঠানামা। সেই সমস্ত সমস্যার সমাধানে এবার একগুচ্ছ পরিকল্পনা সামনে এল শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটকে ঘিরে।
মঙ্গলবার রেগুলেটেড মার্কেটে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিপণন দফতরের সচিব অভিনব চন্দ্র আইএএস এসডিও, ডিএম এবং বাজারের ব্যবসায়ীরা। প্রায় পঞ্চাশ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই বাজারে রাস্তা; নিকাশি ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, প্রতিদিন ২০ টির বেশি ট্রাক বাজারে প্রবেশ ও বেরোনোর সময় সমস্যায় পড়ে। হাইওয়ে তৈরি হওয়ার সময় নয়নজুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির জল জমে থাকার সমস্যাও রয়েছে। নতুন গেট, পানীয় জল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে, বাজারের ভিতরে প্রসেসিং সেন্টার তৈরীর পরিকল্পনাও রয়েছে। কাঁচা জৈব বর্জ্য থেকে জৈব সার এবং থার্মোকল সহ অন্যান্য বর্জ্য আলাদা করে প্রক্রিয়াকরণের চিন্তাভাবনা চলছে। এতে করে ব্যবসায়ীদের বর্জ্য অপসারণের খরচ কমার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত বর্জ্য পদার্থ থেকে আয়ের সুযোগও হতে পারে। এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ট্রাক চালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ভবনের উপরে থাকার ব্যবস্থা এবং নিচে খাবারের জায়গা ও গোডাউন রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বাজারে কোল্ড স্টোর তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
এদিন, পেয়াজ ও চিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন মন্ত্রী। চলতি মাসের মধ্যে ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ এবং ৫০ টাকা বা তার নিচে ধরে চিনি বাজারে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পুজোর আগে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাই লক্ষ্য বলে জানান তিনি। পুরনো বাজারের পরিকাঠামো নতুন করে তৈরি, জলবিদ্যুৎ পরিষেবায় উন্নতি, সৌরশক্তি এবং চুরি রুখতে নিরাপত্তায় জোরদার, সব মিলিয়ে ধাপে ধাপে আমুল পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।