চোখের সামনে সে হারিয়েছে তার মাকে। এখন চারিদিকে কেউ নেই তার। মাকে হারিয়ে অনাথ হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণে বাঁচল গন্ডারশাবক। হৃদয়স্পর্শী এমন ঘটনার সাক্ষী রইল এই বাংলা। তবে এরপর কী ? জানেনা নিজেও। শাবকটির বয়স প্রায় দেড় বছরের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ গন্ডারের তাড়া খেয়ে মায়ের সঙ্গে তারা লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল সে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাকে হারিয়ে একা হয়ে পড়ল সে। মাকে হারিয়ে হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল গন্ডারের শাবককে। মঙ্গলবার সকালে জলদাপাড়া পশ্চিম রেঞ্জের কুঞ্জনগর বিটের কুঞ্জনগর গ্রামে ঢুকে পড়ে একটি স্ত্রী গন্ডার ও তার প্রায় দেড় বছরের শাবক। একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ গন্ডারের তাড়া খেয়ে তারা লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল বলে বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। চোখের সামনে ক্ষুদে শাবক দেখেছে মায়ের মৃত্যু। চরম ক্লান্তি ও মানসিক চাপে স্ত্রী গন্ডারটির মৃত্যু হয়।
মাকে হারিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে গ্রামে ঘোরাঘুরি করতে থাকে সে। খবর পেয়ে শাবকটিকে বাঁচাতে তৎপর হয় বন দফতর। শাবকটিকে উদ্ধার করতে সঙ্গে সঙ্গে অভিযান শুরু করেন বনকর্মীরা। জাল ব্যবহার করে এবং নিরাপদ জায়গার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও ঘনবসতি, বিপুল মানুষের ভিড় এবং শাবকটির উত্তেজিত আচরণের কারণে প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকাজ সফল হয়নি।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জলদাপাড়া বন্যপ্রাণ বিভাগ-এর ছয়টি রেঞ্জ থেকে প্রায় ৬০ জন বনকর্মী উদ্ধার অভিযানে নামেন। অবশেষে স্থানীয় পুলিশও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন দফতরকে সহযোগিতা করে। সন্ধ্যার দিকে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূল হলে পশুচিকিৎসক দলের সদস্যরা সফলভাবে শাবকটিকে ট্রাঙ্কুলাইজ করেন। এরপর বাঁশের কাঠামোর সাহায্যে তাকে নিরাপদে পরিবহণের খাঁচায় তোলা হয় এবং ট্রাক্টরের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রায় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হরিণডাঙা টাওয়ার সংলগ্ন তৃণভূমিতে শাবকটিকে সফলভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। মায়ের মৃত্যুর পর নতুন পরিবেশে শাবকটির মানিয়ে নেওয়া এবং পূর্ণবয়স্ক পুরুষ গন্ডারের মতো অন্যান্য প্রাণীদের হাত থেকে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত লাগাতার নজরদারি চালাবেন বনকর্মীরা।যে মায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও ছিল এই শাবক, মাকে হারিয়ে এখন সময় ও বাস্তবতার মুখোমুখি সে।