বাঙালির ইলিশপ্রেমের মরশুমে এল সুখবর। দিঘা মোহনায় যেন শুরু হয়েছে ইলিশের জোয়ার। গত কয়েকদিনে মৎস্যজীবীদের জালে বিপুল পরিমাণ রুপোলি শস্য ধরা পড়েছে। জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি একসঙ্গে ৩০ টনেরও বেশি ইলিশ উঠেছে। পাশাপাশি, গত ৫ থেকে ৭ দিনে প্রায় ২০০ টন ইলিশ ওঠার খবর মিলেছে। স্বাভাবিকভাবেই পূজোর আগে ইলিশের যোগান বাড়ার সম্ভাবনায় খুশি মৎস্যজীবী এবং ক্রেতারা।
তবে, এই ছবি এখনো গোটা দক্ষিণবঙ্গের নয়। কাকদ্বীপ, নামখানা, রায়দিঘি-সহ একাধিক মৎস্য বন্দরের বহু ট্রলার খারাপ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে নামতে পারছে না। উত্তাল সমুদ্রের জন্য কয়েক দফায় ট্রলারকে ফিরে আসতে হয়েছে। ফলে, দিঘায় জোগান বাড়লেও কলকাতার বাজারে তার প্রভাব এখনও সেভাবে পড়েনি, বলে জানা গিয়েছে।
মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি অলোক হালদার জানিয়েছেন, আবহাওয়া ঠিক থাকলে পুজো পর্যন্ত ইলিশের যোগান বাড়ার আশা রয়েছে। সমুদ্র শান্ত হলে আরও বেশি ট্রলার মাছ ধরতে যেতে পারবে। তখন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাজারে বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ বাড়তে পারে। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২৫০০ টাকা। সাধারণ মানুষের কাছে এই দাম এখনও বেশ চড়া। হিমঘরে সংরক্ষিত ইলিশ বা গুজরাটের ইলিশ তুলনামূলক কম দামে মিললেও বঙ্গের তাজা ইলিশের দাম কমেনি।
সামনে রান্না পুজো, তারপর বিশ্বকর্মা পুজো। তাই বাঙালির ইলিশের চাহিদা বাড়বেই। দিঘার মতো জোগান যদি অন্যত্রও বাড়ে এবং ট্রলারগুলি নিয়মিত সমুদ্রে যেতে পারে, তাহলে বাজারে ইলিশের দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, শেষ পর্যন্ত ইলিশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সমুদ্রের হাতে। সমুদ্র শান্ত হলে হয়তো বাঙালির পাতে আরও সহজে ইলিশ ফিরবে।