উত্তর ২৪ পরগনা, রেশমি ব্যানার্জি: পুজোর আগেই রাজ্যের গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বড়সড় ইঙ্গিত। সিএনজি ও বৈদ্যুতিক মিলিয়ে প্রায় ৬০০ টি নতুন বাস রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা করেছে রাজ্যের পরিবহন দফতর। একইসঙ্গে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ১৫ বছরের বেশি পুরনো পুলকার, রেজিস্ট্রেশনহীন এবং কর না দেওয়া গাড়ি বন্ধ করে দেওয়ার কড়া পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। এই সমস্ত গাড়ি পরিষেবা থেকে সরিয়ে নিতে স্কুল গুলিকে এক মাস সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং।
বুধবার ব্যারাকপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য সরকারের ১০০ দিন কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন পরিবহনমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী। এই সম্মেলন থেকে পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং-এর বক্তব্য, শুধু কলকাতা নয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবহন পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভিন রাজ্যেও বাস পরিষেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
একইসঙ্গে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াতে ব্যবহৃত পুলকার গুলিতেও। ১৫ বছরের বেশি পুরনো গাড়ি, রেজিস্ট্রেশনবিহীন কিংবা কর বকেয়া থাকা পুলকার যাতে আর পথে না নামে, সে বিষয়ে স্কুলগুলিকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে এই ধরনের গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
সূত্রে খবর, রাজ্যের ট্র্যাফিক ব্যবস্থাতেও আসতে চলেছে প্রযুক্তিনির্ভর বড় পরিবর্তন। ম্যানুয়াল সিগন্যাল ব্যবস্থার পরিবর্তে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে যানবাহনের ওপর নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, ট্র্যাফিক সিগন্যালের ক্যামেরায় কোনও গাড়ির গতিবিধি ধরা পড়লেই দ্রুত সেই তথ্য কন্ট্রোলরুমে পৌঁছে যাবে। এর ফলে, সিগন্যাল ভাঙ্গা, ভুয়ো নম্বর প্লেট ব্যবহার, রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি কিংবা চুরি হয়ে যাওয়া গাড়ি শনাক্ত করা আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতার পাশাপাশি সংলগ্ন এলাকাতে এআই নির্ভর নজরদারি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু গাড়ি নয়, রাস্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর এবং RTO আধিকারিকদেরও বডি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, পরিবহন ব্যবস্থায় ম্যানুয়াল নজরদারি কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ভবিষ্যতের পথ। একইসঙ্গে, নতুন বাস পরিষেবা ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে যাত্রী পরিষেবা ও সড়ক নিরাপত্তা, দুই ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আসবে।
আগামী দিনে গণপরিবহনে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে চলে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে যোগাযোগ মাধ্যম যেমন উন্নত হবে তেমনই পরিবেশ রক্ষা পাবে।