মহারাষ্ট্র, নিউজ ডেস্ক: একসময় যাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল একাধিক এফআইআর এবং জারি হয়েছিল দফায় দফায় তলবনামা, সেই বিতর্কিত অতীতকেই কৌতুকের মোড়কে মঞ্চে তুলে ধরলেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান সময় রায়না। সম্প্রতি মুম্বইয়ে মহারাষ্ট্র সাইবার বিভাগের একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের হাত থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ করলেন তিনি। তবে সম্মান নেওয়ার মুহূর্তেও নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসবোধ বজায় রেখে পুরো সভাগৃহকে হাসিতে ভাসিয়ে দেন এই কমেডিয়ান।
সাইবার অপরাধ রুখতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মহারাষ্ট্র সাইবার বিভাগ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' এবং তাদের বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরকেন্দ্রিক গান '১৯৩০ মহারাষ্ট্র সাইবার অ্যান্থেম'। এই সচেতনতামূলক প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী, আশিস বিদ্যার্থী, শরদ কেলকর, সোনালী বেন্দ্রে, জাভেদ জাফরি ও সুনিধি চৌহানের মতো একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের সঙ্গেই বিশেষ অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয় সময় রায়নাকেও।
মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসকে ধন্যবাদ জানিয়ে সময় রায়না নিজের পুরনো আইনি জটিলতার প্রসঙ্গ টেনে রসিকতা করে বলেন, "মহারাষ্ট্র সাইবারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক পুরনো। ১৯৩০ নম্বরটা সত্যিই খুব কাজের, কারণ ওখান থেকেই আমার কাছে ঘন ঘন ফোন আসে।" সাইবার বিভাগের তৎপরতার প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, "মহারাষ্ট্র সাইবার সেল অত্যন্ত সক্রিয়। আপনি ভারতে থাকুন বা আমেরিকায়,ওঁরা ঠিক খুঁজে বের করবেনই। আজ বোধহয় প্রথমবার ঘটল যে, সাইবার সেলের কোনো আধিকারিক সকালে কোনো কমেডিয়ানের বাড়ি গিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে এলেন, কিন্তু এবার তাঁকে গ্রেপ্তার নয়, সম্মাননা দেওয়া হলো।"
উল্লেখ্য, গত বছর নিজের জনপ্রিয় ইউটিউব শো 'ইন্ডিয়াস গট ল্যাটেন্ট'-এর একটি পর্বকে কেন্দ্র করে আইনি বিপাকে পড়েছিলেন সময়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে মন্তব্য এবং পডকাস্টার রণবীর আল্লাহবাডিয়ার একটি বিতর্কিত প্রশ্ন ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। ফলে একাধিক এফআইআর দায়ের হওয়ার পাশাপাশি শো-এর সব পর্ব ইউটিউব থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হন তিনি। সেই সময় আমেরিকায় থাকায় ভার্চুয়ালি বয়ান রেকর্ড করার আবেদন জানালেও সাইবার বিভাগ তা খারিজ করে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে শীর্ষ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি প্রক্রিয়া ও এফআইআর খারিজ করে বড়সড় স্বস্তি দেয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস জানান, সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে সমাজের খ্যাতনামা শিল্পী ও কলাকুশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে অতীতে যে সংস্থার কড়া নজরদারিতে ছিলেন, তাদের থেকেই সরাসরি সম্মানিত হওয়ার এই মুহূর্তকে সামাজিক মাধ্যমে অনুরাগীরা কামব্যাক এবং লাইফ কামিং ফুল সার্কেল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বর্তমানে 'ইন্ডিয়াস গট ল্যাটেন্ট'-এর দ্বিতীয় সিজন নিয়ে ফের ডিজিটাল মাধ্যমে সক্রিয় সময় রায়না।