লালকেল্লায় ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দেখা গেল না লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে। অনুপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গেও। এই নিয়ে টানা তৃতীয় বছর স্বাধীনতা দিবসের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এরই মধ্যে বিরোধীদের আসন বিন্যাস নিয়ে একটি তালিকা পাঠাল কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
কংগ্রেসের দুই কুশীলবের অনুপস্থিতির নেপথ্যে আসন বরাদ্দের বিষয়টি রয়েছে কি না, উঠছে সেই প্রশ্নও। সেই আবহেই একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পাঠানো এই তালিকা। শুক্রবার কংগ্রেসের কাছে পাঠানো ওই তালিকায় আগের সরকারের আমলে বিজেপির প্রাক্তন বিরোধী দলনেতাদের লালকেল্লার অনুষ্ঠানে বসার জায়গার উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এ বারের আসন বিন্যাস নিয়ে কেন্দ্র ও কংগ্রেসের মধ্যে চাপানউতোর আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পাঠানো তালিকায় বিশেষ ভাবে উল্লেখ রয়েছে সুষমা স্বরাজ এবং অরুণ জেটলির আসনের কথা। দু’জনেই পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের সময়ে লোকসভায় বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব সামলেছিলেন। সেই সময় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁদের কোন সারিতে, কোথায় বসানো হয়েছিল, তারই নজির তুলে ধরে বর্তমান আসন বিন্যাসের পক্ষে যুক্তি দেখানো হয়েছে বলে খবর।
রাহুল গান্ধী বর্তমানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং খাড়গে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা। ফলে প্রোটোকল অনুযায়ী তাঁদের আসন নিয়ে কংগ্রেসের আপত্তি ছিল কি না, তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে। যদিও কংগ্রেসের শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতির আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ্যে স্পষ্ট করা হয়নি। কেন্দ্রের পাঠানো পুরনো নজিরের তালিকা সেই জল্পনাতেই নতুন করে ইন্ধন জুগিয়েছে।
সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে বিরোধী শিবিরের দুই শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। এক দিকে আসন বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন, অন্য দিকে সুষমা-জেটলির পুরনো আসনের নজির তুলে ধরে কেন্দ্রের পাল্টা অবস্থান—দুইয়ের মাঝে চাপ বাড়ছে কংগ্রেস ও কেন্দ্রের রাজনৈতিক টানাপড়েনে। এখন দেখার, এই বিতর্কে কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।