বাদ যাচ্ছে রংধনু,ফিরছে রামধনু!বাদ যাচ্ছে তোষণের রাজনীতি-ছোঁয়া শব্দরা।বিগত সরকার সুকৌশলে সহজ সরল হৃদয় শিশুদের পাঠ্যবইয়ে 'বিশেষ কিছু শব্দ' চাপিয়ে দিয়েছিল। সেখানে 'আকাশ' হয়ে যায় 'আসমান', 'রামধনু' বদলে গেছিল 'রংধনু' হয়ে। কিংবা 'জলখাবার'-এর জায়গায় আনা হয়েছিল 'নাস্তা'। এমনকি পারিবারিক সম্পর্ক গুলিও বদলে গেছিল। সেখানে 'বাবা' 'আব্বা'য় বদলে যান, 'কাকা' বদলে যান 'চাচা'য়। ঠিক এই জায়গাতেই ঘা দিয়েছেন বর্তমান রাজ্য সরকারের শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
'যারা সিলেবাস বানাবেন,তাঁরা খেয়াল করবেন রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজনীতিমুক্ত পাঠদান ও তোষণমুক্ত সিলেবাস করতে হবে। আমাদের সিলেবাসকে আসমান থেকে আকাশে ফেরাতে হবে। আমাদের সিলেবাসকে রংধনু বা রঙের ছটা থেকে রামধনুকে ফেরাতে হবে। আমাদের সিলেবাসকে নাস্তা থেকে জলখাবারে ফেরাতে হবে।' এই বার্তার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে রাজনীতি ও তোষণমুক্ত করতে চেয়েছেন তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষার সিলেবাস নিয়েও সুচিন্তিত মতপ্রকাশ করেন তিনি। তৃণমূল জমানায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত 'বর্ণ পরিচয়' ও 'সহজ পাঠ'-এর মতো ঐতিহ্যবাহী বইগুলি বদলে দিয়ে তার জায়গায় 'আমার বই' বা 'আমার পরিবেশ'-এর মতো বই আনা হয়েছিল। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ- সেখানে জোর করে 'বিশেষ কিছু চরিত্র' এনে 'বিশেষ উদ্দেশ্য' সাধন করা হচ্ছিল।পরিষ্কার ভাবে বলতে গেলে ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে সংখ্যালঘুদের তোষণ করা হচ্ছিল।তাই প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণীর পাঠ্য থেকে বর্ণপরিচয় বা সহজপাঠ তুলে দেওয়া হয়েছিল--এমনটাই শিক্ষামন্ত্রী বলতে চেয়েছেন। একারনেই তিনি মন্তব্য করেছেন 'আগামী দিনে পাঠ্যক্রমে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'বর্ণ পরিচয়' এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সহজ পাঠ'-এর গৌরবময় স্থান আবারও ফিরিয়ে আনা হবে।'