আজ সকালেই রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন। কৃষিমন্ত্রী থেকে শিক্ষামন্ত্রী; দায়িত্ব সামলেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে,পরম যত্নে। হয়েছিলেন বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার। তখন তৃণমূল আমল। তবে, তিনি যখন প্রথম বিধায়ক হন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মসনদে তখন ' লাল জমানা '।
তবে তাঁর বিধায়ক হতে কোনও অসুবিধে হয়নি। কারণ সবার আগে, তিনি ছিলেন এক অধ্যাপক - শিক্ষকের সংস্কারী রূপ। তিনি আশীষ বন্দোপাধ্যায়। বীরভূমের রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক। বিজেপি জমানায় যাকে পরাস্ত করে উঠে এলেন বর্তমান বিধায়ক ধ্রুব সাহা। আর এসেই তাঁর (আশীষ বন্দোপাধ্যায়) নামে আনলেন আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। সেকারণেই কী তার আত্মহত্যার পত্রে অভিমান, ক্ষোভ এবং পরবর্তী প্রজন্মকে রাজনীতির ছায়া মাড়াতে নিষেধ করে গেলেন? প্রশ্ন উঠছেই।
তবে এসব ছাপিয়ে তাঁর মৃত্যু নিয়ে উঠছে রাজনীতির ময়দানে নানা সমীকরণ। সেই সমীকরণের প্রথম অঙ্ক কষেছেন কুণাল ঘোষ। এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারপর অনুব্রত মন্ডল। সেই অঙ্কের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আসেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।এবং তারপরই ময়দানে নামেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ খোলেন তিনি। তাঁর কথায় পরোক্ষে বিজেপি এবং বিদ্রোহী শিবির অর্থাৎ ঋতব্রতদের নিশানা করেন।
আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার 'এক্স হ্যান্ডল'র পোস্টে লেখেন, 'জীবনের শেষ দিনগুলিতে প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল আশীষকে। এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক।' তাঁর প্রতি বার বার অপমান, মিথ্যা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন মমতা।
তিনি আরও লেখেন 'আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু আমাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রামপুরহাট এবং বীরভূমের মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।' মমতা আরও লেখেন, 'আশীষ ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ, বিনয়ী মানুষ। শিক্ষকতা এবং সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে রামপুরহাটের মানুষের জন্য কাজ করেছেন।'
আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকাহত বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন 'আশীষ অত্যন্ত ভদ্র, সজ্জন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গেও তাঁর ভাল সম্পর্ক ছিল।আশীষের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল ছিল বলেও জানান তিনি।' তাঁর সংযোজন 'মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আশীষ আমার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ' তিনি আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারকে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার আবেদন জানান।