স্পোর্টস ডেস্ক: তিরুবনন্তপুরমে ম্যাচ জয়ের পর হোটেলে ফেরার সময় আচমকাই ঘটে যায় বিপত্তি। বাস থেকে নামতে গিয়ে আকস্মিকভাবে পড়ে যান রোহিত শর্মা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা তড়িঘড়ি তাঁকে ধরে তুললেও উদ্বেগ তৈরি হয় গুয়াহাটিতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচকে ঘিরে। এই ম্যাচে নামতে পারবেন তো হিটম্যান? বুধবার বর্ষাপাড়ায় তিনি শুধু নামলেনই না, ক্যারিবিয়ানদের দেওয়া পাহাড়সমান লক্ষ্যের জবাবে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে পেরিয়ে গেলেন একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ হাজার রানের মাইলফলক।
আগের দিনই শচীন তেন্ডুলকরের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ১৫ হাজারের ক্লাবে ঢুকে পড়েছিলেন বিরাট কোহলি। এ দিন ছিল রোহিতের পালা। অবিস্মরণীয় মাইলফলক থেকে তিনি ছিলেন মাত্র ৭৩ রান দূরে। অবশেষে ইনিংসের ১৬ তম ওভারে রস্টন চেজের বলে এক রান নিয়ে ওডিআই ক্রিকেটে নিজের ১২ হাজার রান পূর্ণ করেন রোহিত। মাত্র ২৮২ ইনিংসেই এই অসামান্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। যা ওডিআই ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম। রোহিতের আগে একমাত্র নামটি হল, বিরাট কোহলি। ১২ হাজার পূর্ণ করতে কিং কোহলির লেগেছিল মাত্র ২৪২ ইনিংস।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এ দিন সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তিনজন ব্যাটার। ২০১৫ সালে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে সিরিজের অন্তিম তথা ওডিআইতে সেঞ্চুরি করেছিলেন কুইন্টন ডি কক, ফাফ ডু প্লেসিস এবং এবি ডি'ভিলিয়ার্স। বুধ-দুপুরের গুয়াহাটিতে ভারতীয়দের জন্য সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতি আবার ফেরত আনেন জন ক্যাম্পবেল, অধিনায়ক শাই হোপ এবং আমির জাঙ্গু। বর্ষাপাড়ায় তিন ব্যাটারের রান-বর্ষায় ৭ উইকেটে ৪০৫ রানের পর্বত খাড়া করতে সক্ষম হয় ক্যারিবিয়ানরা।
তবে একা রোহিতই নন, একটি বিরল কীর্তি গড়েছেন টিম ইন্ডিয়ার বাঁহাতি চায়নাম্যান বোলার কুলদীপ যাদবও। ৪৬ তম ওভারের প্রথম বলেই কিমো পলকে আউট করে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ২০০ উইকেটের মাইলফলক এ দিন স্পর্শ করেছেন তিনি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বলের হিসেবে তৃতীয় দ্রুততম ২০০ উইকেটের নজির গড়েছেন কুলদীপ। ২০০ উইকেট নিতে তিনি নিয়েছেন ৬,৩১৯টি বল। তাঁর আগে রয়েছেন যথাক্রমে পাকিস্তানের সাকলিন মুস্তাক (৫,৪৫১ বল) এবং আফগানিস্তানের রশিদ খান (৫,৭৮২ বল)। এ ছাড়া ভারতের হয়ে ম্যাচের সংখ্যার নিরিখে দ্বিতীয় দ্রুততম ২০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন ১২৩টি একদিনের ম্যাচ খেলা কুলদীপ। তাঁর ওপরে রয়েছেন শুধু মহম্মদ শামি। যিনি মাত্র ১০৪টি ওডিআই ম্যাচেই পৌঁছে গিয়েছিলেন ২০০ উইকেটে।
তবে কুলদীপের এই কীর্তি কার্যত ম্লানই হয়ে গিয়েছিল ক্যারিবিয়ান শক্তি-প্রদর্শনে। ১০১ রান করে ক্যাম্পবেল আউট হয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় উইকেটে জাঙ্গুকে নিয়ে ১৮২ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক হোপ। তাঁর নামের পাশে ঝকঝকে ১০৪ রান। সব মিলিয়ে শুভমান গিলদের সামনে লক্ষ্যটা দাঁড়ায় বিরাট। জিততে হলে করতে হবে ৪০৬ রান। আজ পর্যন্ত ওডিআইতে সবথেকে বেশি ৩৬০ রানই তাড়া করতে জিততে পেরেছে টিম। অর্থাৎ বর্ষাপাড়ায় জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে ছাপিয়ে যেতে হবে সেই রেকর্ডকে। প্রথম উইকেটে রোহিত-গিলের জুটি প্রস্তুত করে দিয়েছে সেই মঞ্চই। হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে তিন অঙ্কের দিকে এগিয়ে চলেছেন দুই ব্যাটারই।
