নিউজ ডেস্ক: কয়েক মাস পর নিজের পুরনো রাজনৈতিক ঘাঁটিতে ফিরছিলেন তিনি। বুধবার বিকেলে সিউড়ির দলীয় কার্যালয়ে বসে যখন নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখনই হঠাৎ বদলে গেল গোটা পরিস্থিতি। মুহূর্তের মধ্যে কার্যালয়ের ভিতরে তৈরি হলো তুমুল উত্তেজনা। অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই শুরু হল ভাঙচুর ও হট্টগোল।
৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার বীরভূমের সিউড়িতে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, প্রায় চার মাস পর এই দিনই প্রথমবার ওই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। নিজের চেয়ারে বসে থাকার সময় কয়েকজন যুবক আচমকা সেখানে ঢুকে পড়েন। তাঁদের কয়েকজনের মুখ কাপড়ে ঢাকা ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। অভিযোগ, যুবকদের হাতে ছিল লাঠি ও গাছের ডাল। কার্যালয়ে ঢুকেই তাঁরা টেবিল, চেয়ার, কাচের অংশসহ বিভিন্ন জিনিস ভাঙচুর করেন। এমনকি, অনুব্রত মণ্ডলের সামনে থাকা কাচের টেবিলও পিটিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া হয়। ভাঙচুরের জেরে কাঁচের টুকরো ছিটকে অনুব্রতর গায়ে লাগে বলে জানা গিয়েছে। কার্যালয়ের ভিতরে থাকা এসিতে ও আঘাত করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ হামলাকারীদের কয়েকজন অনুব্রত মণ্ডলের কাছে গিয়ে তাঁর কলার ধরে টানেন। এমনকি, আঙুল তুলে তাঁকে সেখানে না যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। যুবকদের মুখে শোনা যায় গত ১৫ বছরের প্রসঙ্গ। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বীরভূমের মানুষের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। সেই ১৫ বছরের হিসেব চেয়ে অনুব্রতকে প্রশ্ন করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে 'গরুচোর' বলেও কটাক্ষ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, গোটা ঘটনার পর অনুব্রত মণ্ডলকে তুলনামূলক শান্ত থাকতে দেখা যায়। তিনি যুবকদের উদ্দেশ্যে শান্তভাবে তাঁর কথা শোনার জন্য বলেন। কিন্তু, তাতে করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অভিযোগ তাঁর কথায় কান না দিয়ে ভাঙচুর ও হুমকি চলতে থাকে।
এই ঘটনার পর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরে তিন যুবককে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে, ঠিক কি কারনে এই হামলা, কারা এর নেপথ্যে এবং তাঁদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই তাঁর দলীয় কার্যালয়ে এমন ঘটনার জেরে বীরভূমের তথা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
