নিউজ ডেস্ক: ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে পিরিয়ড ড্রামায় রবীন্দ্রনাথের চরিত্রে সঞ্জয় নাগ। কবি জয় গোস্বামীর কণ্ঠ শোনা যাবে অভিনেতা সঞ্জয় নাগে অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরিত্রে। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের আসন্ন ছবি 'এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র'-তে রবীন্দ্রনাথের হয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন কবি জয় গোস্বামী। বুধবার ছবির নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এই খবর জানানো হয়েছে।ছবিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরিত্রে অভিনয় করছেন সঞ্জয় নাগ। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিতর্কিত উপন্যাস ‘পথের দাবী’ নিয়ে শরৎচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের মধ্যে যে মতবিনিময় হয়েছিল, ছবিতে সেই ঘটনাকেই তুলে ধরা হয়েছে।
সঞ্জয় নাগ পর্দায় রবীন্দ্রনাথের চরিত্রে অভিনয় করলেও তাঁর কণ্ঠে শোনা যাবে জয় গোস্বামীর কণ্ঠস্বর।এই জুটি দর্শকদের মনে ফিরিয়ে দিচ্ছে ঋতুপর্ণ ঘোষের ২০১৩ সালের ডকু-ড্রামা ‘জীবনস্মৃতি’-র স্মৃতি। সেই ছবিতেও রবীন্দ্রনাথের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সঞ্জয় নাগ এবং তাঁর হয়ে কণ্ঠ দিয়েছিলেন জয় গোস্বামী। ফলে ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-এ তাঁদের এই পুনর্মিলন নিঃসন্দেহে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-তে মূলত শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত উপন্যাস ‘পথের দাবী’ ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক বিতর্ককে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে বিপ্লবী ভাবধারা এবং ব্রিটিশবিরোধী বক্তব্য থাকায় তৎকালীন ঔপনিবেশিক সরকারের বিরাগভাজন হয়েছিল এই বইটি। ১৯২৭ সালে উপন্যাসটি নিষিদ্ধ করা হয় এবং সেই নিষেধাজ্ঞা ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল।
সেই বিতর্কের সূত্র ধরেই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যে চিঠি বিনিময় হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ মনে করেছিলেন, উপন্যাসটিতে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে, শরৎচন্দ্র তাঁর লেখার উদ্দেশ্য ও অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন।তাঁদের চিঠিপত্রে শুধু একটি উপন্যাস নিয়ে মতপার্থক্যই নয়, সাহিত্য, রাষ্ট্র এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়েও বৃহত্তর বিতর্কের প্রতিফলন দেখা যায়। কথা সাহিত্যিক ও কবিগুরুর ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ছবিতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন টোটা রায়চৌধুরী। আবির চট্টোপাধ্যায় রয়েছেন শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সব্যসাচীর ভূমিকায় এবং এই ছবিতে রয়েছেন মিমি চক্রবর্তী'ও।
এই ছবির মাধ্যমে সৃজিত মুখোপাধ্যায় প্রথমবার সঙ্গীত পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছেন। এদিকে, গত মাসে জয় গোস্বামীকে ঘিরে একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের দর্শকাসনে জয় গোস্বামীকে দেখতে পেয়ে তসলিমা তাঁকে মঞ্চে ডাকেন। তবে উপস্থিত দর্শকদের একাংশ তাঁর মঞ্চে ওঠার বিষয়ে আপত্তি জানালে সাময়িকভাবে অনুষ্ঠান ব্যাহত হয়। নন্দী মুভিজ প্রযোজিত ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ দুর্গাপুজো উপলক্ষে ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। একই সময়ে একাধিক বাংলা ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা, যার মধ্যে রয়েছে ‘দেশু-৭’, ‘বহুরূপী: দ্যাগোল্ডেনডাকু’ এবং ‘দ্যা একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’। উৎসবের মরসুমে বাংলা ছবির পাশাপাশি মুক্তি পেতে চলা অন্য ভাষার ছবির তালিকায় রয়েছে রজনীকান্ত অভিনীত ‘জেলার 2’, রাজকুমার রাওয়ের ‘প্রহার’ এবং ইয়ামি গৌতম অভিনীত ‘নায়ী নাভেলী’।
