নয়াদিল্লি,অঙ্কন দাস: বিরাট বড় ধাক্কা! অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ)- র রাজনৈতিক ইমেজের জন্য। মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি) ছয়জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক মহলে পড়েছে শোরগোল! ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী এবং আপ নেতৃত্ব সত্যেন্দ্র জৈন। এছাড়াও দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন সিইও উদিত প্রকাশ রাই (আইএএস) গ্রেফতার হয়েছেন।
দিল্লি জল বোর্ডের' সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট' প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনটাই জানালেন পুলিশকর্তারা। এসিবি-র এক বিবৃতিতে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার করা অন্য অভিযুক্তরা হলেন যথাক্রমে ডিজেবি-র প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা বা, (কনট্রাকচুয়াল কনসালটেন্ট) অঙ্কিত শ্রীবাস্তব এবং অন্যান্য ব্যক্তিরা হলেন নগেন্দ্র যাদব, রাজা কুমার কুররা ও পঙ্কজ ভার্মা।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ডিজেবি-র সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টগুলোর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, টেন্ডারের শর্তাবলীতে কারচুপি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ডিরেক্টরেট অফ ভিজিল্যান্সের দায়ের করা হয়েছিল ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ১১ মে এই মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
অভিযানটিতে নেতৃত্বদানকারী যৌথ পুলিশ কমিশনার (এসিবি) বিক্রমজিৎ সিং জানান, 'তদন্তকালে এসিবি দেখেছে যে দরপত্র প্রক্রিয়ায় এমন কিছু সীমাবদ্ধতামূলক কারিগরি শর্ত ও নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল যা ‘ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড’ (রাজা কুমার কুররা'র মালিকানাধীন কোম্পানি) কে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছিল। এর ফলে দরপত্রের প্রতিযোগিতাতে বারবার অন্যায্য ভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলেন রাজা কুমার কুররা।'
ওই পুলিশকর্তা আরও জানান, 'তদন্তে দেখা গেছে যে প্রস্তাবিত পাইলট স্টাডি বা পরীক্ষামূলক সমীক্ষাটি আদৌ করা হয়নি। অথচ দরপত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও মাধ্যম সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতামূলক শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া পরিশোধিত বর্জ্য জল সংক্রান্ত জরুরি মানদণ্ডগুলো বাদ দেওয়া এবং কারিগরি শর্তাবলীতে পরিবর্তন আনার ফলে সরকারি কোষাগারের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রভাব পড়েছিল। এসিবি এখন অর্থের লেনদেনের পুরো বিষয়টি এবং অপরাধলব্ধ অর্থের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।'
তদন্তে এসটিপি (STP) দরপত্র সংক্রান্ত বৈঠক, শর্তাবলী, সংশোধনী এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে কুররা, যাদব ও শ্রীবাস্তবের মধ্যে যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এদের মাধ্যমেই বিশাল আর্থিক কারচুপি এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি থাকায় অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন সত্যেন্দ্র জয়েন, এমনটাই সন্দেহ করা হচ্ছে।
এসিবির মতে, 'এই যোগাযোগ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতামূলক শর্ত এমনভাবে প্রবর্তন বা পরিবর্তন করা হয়েছিল যা ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের সুবিধাজনক ছিল।' জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্ত ছয়জনকে আরও তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এএমনটাই জানিয়েছেন এসিবি। আর একারণেই চিন্তার ভাঁজ 'আম আদমি পার্টি'র শীর্ষ নেতৃত্বের।