নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে একলপ্তে ১৯৮ মুসলিমের নাম কাটার আবেদন, কর্নাটকে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর, চরম সংঘাতের মুখে কংগ্রেস ও কমিশন।
বাংলা, বিহার, মহারাষ্ট্র কিংবা হরিয়ানার নির্বাচনে যেভাবে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল বিরোধী শিবির, ঠিক একই কায়দায় এবার কর্নাটকেও ভোটার ছাঁটাইয়ের ছক কষা হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করল রাজ্যের শাসকদল কংগ্রেস। এই বিতর্কের জল এবার গড়াল থানা-পুলিশ পর্যন্ত। একাই ১৯৮ জন সংখ্যালঘু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জমা করে পুলিশের স্ক্যানারে এলেন এক বিজেপি নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দায়ের হয়েছে ফৌজদারি মামলা। ঘটনার সূত্রপাত বেলগাভিতে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বেলগাভি মার্কেট থানায় রবি পাটিল নামের স্থানীয় এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান এক ভোটার। অভিযোগ, রবি পাটিল নির্বাচন কমিশনের নিয়মবিধির ফাঁক গলে ‘ফর্ম-৭’ ব্যবহার করে একলপ্তে ১৯৮ জন মুসলিম নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলার আবেদন জানিয়েছিলেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। পুলিশ রবি পাটিলের বিরুদ্ধে প্রতারণা, মানহানি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় এফআইআর দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, বুথ স্তরের আধিকারিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রভাবিত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া চালানোর চেষ্টা হচ্ছিল। শুধু বেলগাভি নয়, রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও এমন বহু অভিযোগ জমা পড়ছে বলে পুলিশের একাংশের দাবি।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংঘাত কার্যত চরমে পৌঁছেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে বেছে বেছে যোগ্য ও বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। খোদ উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, বিষয়টি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিজেপি নেতাদের হাতে আগে থেকেই নাম ও এপিক নম্বর লেখা অজস্র ‘ফর্ম-৭’ তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দেয়।
কমিশনের এই ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বেঙ্গালুরুতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের সামনে দলীয় সতীর্থদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান ধরনায় বসেন ডিকে শিবকুমার। শীর্ষ নেতৃত্বের এই কড়া বার্তার পরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এখন সক্রিয় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। যারা নিয়মবহির্ভূতভাবে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একযোগে একাধিক ভোটারের নাম বাতিলের চেষ্টা চালাচ্ছেন, তাঁদের পেছনে কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
