মেট্রো স্টেশনকে করিডোর করে রুপো পাচারের এক অভিনব ছক বানচাল করল রেল সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)। গত সোমবার দুপুরে হাওড়া মেট্রো স্টেশন থেকে আনুমানিক ১৪ লক্ষ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ রুপোর বার-সহ এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ব্যক্তির নাম অতনু পাত্র। ধৃত ব্যক্তি এই বিপুল পরিমাণ রুপোর স্বপক্ষে কোনও বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩ মিনিট নাগাদ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি হাওড়া মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ করেন। স্টেশনের নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হওয়ার সময় নিয়মমাফিক তাঁর সঙ্গে থাকা হ্যান্ডব্যাগটি লাগেজ স্ক্যানার মেশিনে দেওয়া হয়। সেই সময়ই কর্তব্যরত আরপিএফ কর্মীদের নজরে আসে ব্যাগের ভেতরে থাকা কিছু সন্দেহজনক বস্তুর ছবি। তৎক্ষণাৎ ওই যাত্রীকে আটকে ব্যাগটি খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। তল্লাশি চালাতেই ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে একের পর এক চকচকে রুপোর বার।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, উদ্ধার হওয়া রুপোর বারগুলির মোট ওজন প্রায় ৬.৫ কেজি। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী যার আনুমানিক মূল্য ১৩ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা। আরপিএফ আধিকারিকদের দাবি, এত বিপুল পরিমাণ রুপো বহনের কারণ বা তার বৈধ কোনো মালিকানার কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হন ওই ব্যক্তি। আইনি জটিলতা ও বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দ্রুত গোলাবাড়ি থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং সমস্ত রুপোর বার বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে--
১)এই রুপোর বারগুলি ঠিক কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? ২)এই চোরাচালান চক্রের নেপথ্যে আর কোন কোন রাঘববোয়াল জড়িত রয়েছে?৩)
এর আগেও মেট্রো রুট ব্যবহার করে এভাবে মূল্যবান ধাতু পাচার করা হয়েছে কি না?
যাত্রীবহুল হাওড়া মেট্রো স্টেশনে এমন ঘটনা সামনে আসায় যাত্রী নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।