চাকরির অনিশ্চয়তা ও প্রতিনিয়ত জীবন সংগ্রামের লড়াই। অবশেষে হার মেনে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন পুরুলিয়ার এক শিক্ষিকা। ঘটনায় শোকের ছায়া গোটা এলাকায়।
চাকরির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক মাস বাকি। সেই অনিশ্চয়তার আবহেই মৃত্যু হল পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের গোলামারা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষিকা ঈপ্সিতা দাসের। মানসিক অবসাদের কারণেই এই মৃত্যু বলে জানা গিয়েছে।
পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে মৃত্যু হয় তার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিক্ষা মহলে।
সূত্রের খবর, ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৯ সালে চাকরিতে যোগ দেন। পরে প্যানেল বাতিল হওয়ায় চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের পরীক্ষায় অংশ নিলেও মেধাতালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। পরিবারের দাবি, এরপর থেকেই তিনি গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ খেতেন। চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে ঘুমের ওষুধও সেবন করতেন। ১৫ জুলাই রাতে ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার পর ১৬ জুলাই সকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা দু'দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার মৃত্যু হয় তার। ঘটনায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে মৃতার মা বাবা। তারা একেবারে দিশাহীন হয়ে পড়েছেন।
মেধাবী ছাত্রী হিসেবেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন ঈপ্সিতা। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোকোস্তব্ধ পরিবার-পরিজন সহ এলাকার মানুষজন।




