নিউজ ডেস্ক: দূর থেকে ভেসে আসছে ট্রেনের পরিচিত হুইসল। আর সেই শব্দ কানে আসতেই প্ল্যাটফর্মবিহীন ছোট গ্রামীণ স্টেশনের ধারে ভিড় জমালেন শয়ে শয়ে মানুষ। চোখে-মুখে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর কৌতুহল। ট্রেনটি ধীরে ধীরে এসে থামতেই শুরু হলো তুমুল হুল্লোড়। গ্রামবাংলার চিরচেনা আতিথেয়তা ও ধর্মীয় আচার মেনে চলন্ত ইঞ্জিনকে থামিয়ে রীতিমতো বরণ করে নেওয়া হল আস্ত ট্রেনটিকে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এমনই এক আবেগঘন মুহূর্তের চিত্র ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্ত ট্রেন দেখতে ভিড় কেন ?গ্রামবাসীরা কেনই বা বরন করছে একটি ট্রেনকে ?
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি নতুন ট্রেন আসতেই গ্রামবাসী একজোট হয়ে সেটি দাঁড় করিয়েছেন। এরপর শুরু হয় সংবর্ধনা পর্ব। ট্রেনের সামনের ইঞ্জিনটিকে সাজিয়ে তোলা হয় লাল শালু কাপড় এবং কলাগাছের পাতা দিয়ে। ইঞ্জিনের গায়ে আঁকা হয় মঙ্গলচিহ্ন। এর মাঝে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে ঢোলের তালে তালে ও উলুধ্বনিতে। এমনকি সাধারণ গ্রামবাসী পরম স্নেহে ট্রেনের চালক ও সহকারী চালকেও মিষ্টি মুখ করান।
কিন্ত এসবের কারণ কী জানেন ? দীর্ঘদিন পর এলাকায় সরাসরি রেল পরিষেবা চালু হয়েছে তাই আনন্দে সম্মান জানানো হয় বলে জানা গেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গে শহরের সরাসরি যোগসূত্র গড়ে ওঠার প্রথম আনন্দেই গ্রামের মানুষের এই উদযাপন।
স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় সমাজে যানবাহন বা জীবিকার মাধ্যমকে দেবতাতুল্য মনে করে পুজো করার বহু প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকর্মা পুজো, শুভ কোনো কাজের সূচনা বা এলাকায় প্রথম কোনো বড় আধুনিক যানের আগমন ঘটলে লোকসংস্কৃতিতে এমন বরণ ও পূজার্চনার চল দেখা যায়। ট্রেনও অনেক সময় প্রান্তিক মানুষের কাছে আশা-ভরসা ও জীবনযাত্রার নতুন দিগন্ত খুলে দেয় তা তাদের প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা যায়।
প্রত্যন্ত এলাকায় ট্রেন যোগাযোগ মাধ্যম চালু হওয়া মানে একদিকে যেমন যাতায়াত সুবিধা হবে গ্রামের মানুষের তেমনই খরচ ও অপরিশ্রম কমবে। আর পরিশ্রম করে অথবা বেশি টাকা খরচা করে যেতে হবে না শহরে বা যে কোন জায়গায় কাজ করতে। পাশাপাশি এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদেরও বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতে হবে সুবিধা। আর শুধু তাই নয় এলাকায় ধীরে ধীরে স্টেশন তৈরি হলে উন্নত হবে এলাকার আর্থিক পরিকাঠামো।