দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে নদীতে জাল ফেলেছিল মৎস্যজীবীরা। আশা ছিল, জাল ভরে উঠবে বড়সড়ো কোনও মাছ। কিন্তু জাল তোলার পর যা চোখে পড়ল, তারজন্য কোনও ভাবেই প্রস্তুত ছিলেন না তাঁরা। আতঙ্কে মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল পরিস্থিতি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন সকালে অন্য জায়গায় নদীর ধারে দেখা মিলল অস্বাভাবিক এক অতিথির। পরপর এই দুই ঘটনায় সুন্দরবনের নদী জলপথ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন করে আতঙ্ক।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং ও রায়দিঘি এলাকায় পরপর কুমিরের দেখা মেলায় চিন্তিত মৎস্যজীবী থেকে সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল ক্যানিংয়ের গোয়ালবাড়ি এলাকায় নদীতে মাছ ধরছিলেন কয়েকজন মৎস্যজীবী। মাছের জন্য জাল ফেলার পর সেটিকে টেনে তুলতে গিয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন জালে আটকে রয়েছে কোনও বড় প্রাণী। জাল কিছুটা তোলার পরই সামনে আসে কুমির। ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মৎস্যজীবীরা। দ্রুত খবর দেওয়া হয় ক্যানিং বন দফতরে। খবর পেয়ে বনকর্মীরা রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছই। সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার করা হয় কুমিরটিকে। পরে সেটিকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
তবে, এখানেই শেষ নয়। পরদিন সকালে ফের কুমিরের দেখা মিলে রায়দিঘিতে। মনি নদীর জেটিঘাট সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয়দের নজরে আসে কুমিরটি। খবর ছড়িয়ে পড়তে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নদীর ধারে ভিড় বাড়তে শুরু হলেও কুমিরের কাছে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয় স্থানীয়দের। রায়দিঘির ওই জেটিঘাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্র। প্রতিদিন বহু মানুষ নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। ফলে, যাত্রী চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গার কাছে কুমিরের দেখা মেলায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
একদিকে, মৎস্যজীবীদের জালে কুমির অন্যদিকে, জেটি ঘাটে কুমিরের উপস্থিতি, পর পর এই দুই ঘটনায় সুন্দরবনের নদীপথে নতুন করে নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মাছ ধরতে নদীতে নামা মানুষ এবং নৌযাত্রীদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীর জলে নামার আগে পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং কুমিরের উপস্থিতি নজরে এলে দ্রুত বন দফতরকে খবর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।