সব তীর্থ বারবার গঙ্গাসাগর এক বার। তাই গঙ্গাসাগর মেলাতে ঘিরে বাঙালির আবেগ ও উচ্ছ্বাস থাকে তুঙ্গে। গঙ্গাসাগর মেলা এখনো প্রায় পাঁচ মাস বাকি। কিন্তু তার আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। এই মেলাতে ঘিরে প্রশাসনের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি বৈঠক হয়ে গেল কাকদীপে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা-সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিকরা। প্রতিটি দপ্তরকে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। উক্ত বৈঠকে বৈঠকে গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও জোরালো আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি আশা করছেন ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা জাতীয় মেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এরই পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে কচুবেড়িয়া ও লট–৮ এলাকায় স্থায়ী ঘাট নির্মাণ এবং সেখানে নিয়মিত গঙ্গা আরতির ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি বৈঠকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে মুড়িগঙ্গা নদীতে যাত্রী পারাপারের সমস্যার বিষয়টি। ভিসেল চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে থাকা দুটি চ্যানেলের পাশাপাশি আরো একটি চ্যানেল তৈরীর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও এই মুহূর্তে প্রশাসনের বড় উদ্বেগ সমুদ্রের ভাঙন। বর্ষার শুরুতেই কপিলমুনি মন্দির সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতের একাংশে ভাঙতে শুরু করেছে। গঙ্গাসাগর মেলার আগে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেচ দপ্তরকে। সেই মতোইকাজ শুরু করতে চলেছে সেচ বিভাগ।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা তাই কোন দিক থেকেই ত্রুটি রাখতে চায় না রাজ্য সরকার। তাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনকে গঙ্গাসাগর মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু মেলাকে কেন্দ্র করেই গঙ্গাসাগর নয়, এবার সারা বছরই গঙ্গাসাগরকে ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র
হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা নিচ্ছে প্রশাসন। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে গঙ্গাসাগর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এমনটাই আশা রাখছে পর্যটন বিভাগ।