নিউজ ডেস্ক: পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র, সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকার এবং গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচার-এর যৌথ উদ্যোগে বিবেকানন্দ হলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো একটি বিশেষ সঙ্গীত সন্ধ্যা— ‘আরশি নগর’। চিরায়ত বাংলার লোকায়ত গানকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছিল গোটা অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী লোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী আশিস গিরি যা অনুষ্ঠানের একটি প্রধান আকর্ষণ ছিল।
বিনোদনের উর্ধ্বে লোকসঙ্গীত এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে আবহমানকালের ঐতিহ্য, লোকইতিহাস এবং মানুষের যাপনের নানা গল্প। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মুখে মুখে চলে আসা এই গানগুলির মধ্যে রয়েছে বাংলার জীবনযাত্রা, আবেগ, আনন্দ-বেদনা এবং মাটির গন্ধ। বাংলার মাটি, মানুষ, গ্রামজীবন এবং লোকসংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন লোকগানের সুর ও কথা উঠে আসে পরিবেশনায়। এই লোকায়ত সংস্কৃতিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। আশিস গিরির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সেই চিরায়ত লোকগানের সুরই ফিরে আসে মঞ্চে।
এই অনুষ্ঠানে শিল্পী আশিস গিরি তাঁর সুরে লোকায়ত সংস্কৃতির রূপটিকে জীবন্ত করে তোলেন। তাঁর পরিবেশনে লোকগানের সহজ-সরল ভাষা ও মাটির কাছাকাছি থাকা সুর বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। ফলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয় আগ্রহ ও উৎসাহ। লোকসংগীতের চর্চার ক্ষেত্রে আশিস গিরির পরিবেশনার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অনুষ্ঠানে তিনি দর্শকদের প্রাণিত করে তোলেন এবং উপস্থিত শ্রোতারা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী গানগুলি উপভোগ করেন।
বর্তমান সময়ে আধুনিক গানের জনপ্রিয়তার মাঝেও বাংলার লোকগানের নিজস্ব আবেদন রয়েছে। লোকগানের সুরে একদিকে যেমন উঠে আসে বাংলার চেনা ছবি, তেমনই নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপস্থিতি ও উৎসাহও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যা লোকশিল্পের প্রতি মানুষের ভালোবাসার কথাই মনে করিয়ে দেয়। এই ধরনের অনুষ্ঠান আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সার্বিক এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির সংবাদ সংগ্রহ ও ক্যামেরাবন্দী করেছেন সুপ্রিয় ঘোষ, জাজ়বাত ২৪ বাংলা, কলকাতা।