তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন শমীক ভট্টাচার্যের। তাঁর দাবি, তৃণমূল মানেই টাকা এবং টাকার সঙ্গে তৃণমূলের যোগ রয়েছে। দলের তহবিলে থাকা বিপুল অর্থ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘মৃতই হোক কিংবা জীবিত, লড়াইটা আসলে ওই অ্যাকাউন্টে থাকা কয়েক হাজার কোটি টাকার দখলদারি নিয়ে।’ তাঁর দাবি, একটি দল নির্বাচনে জিতে যাওয়ার পরেও কীভাবে সেই দলের তহবিলে কয়েকশো কোটি টাকা আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সম্প্রতি তৃণমূলের তহবিলে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা আসার কথা শোনা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এই অর্থের উৎস নিয়েও তদন্তের দাবি জানান শমীক। তাঁর অভিযোগ, মানুষের সম্পদ লুটের টাকা, বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা কিংবা বেআইনি পথে পাচার হওয়া অর্থ দলের তহবিলে এসে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। শমীকের দাবি, পুরো অর্থের উৎস ও লেনদেন খতিয়ে দেখে বেআইনি অর্থ পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং মানুষের টাকা মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গেও তৃণমূলকে নিশানা করেন শমীক। তাঁর দাবি, ২০১৬ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৩৩ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। পাশাপাশি বহু মানুষের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, অনেককে রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।
এমনকি একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে শমীক বলেন, এক ব্যক্তি তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁর সামনে তাঁর বোনকে বিজেপি করার ‘অপরাধে’ গণধর্ষণ করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে তাঁকে চুপ করে থাকতে বলা হলে তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেই মন্তব্য করেন তিনি। শমীকের দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বিভিন্ন জায়গার প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদ অনেক ক্ষেত্রেই স্বতঃস্ফূর্ত এবং সবসময় তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ।