কলকাতা: বিধানসভা ভোটের পর এ বার পুরভোটের প্রস্তুতি। আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ। সংরক্ষণের তালিকা প্রকাশের দিনও কার্যত নির্ধারিত। ইভিএম পৌঁছতে শুরু করেছে জেলাগুলিতে। এ বার ভোটকর্মী, বুথ এবং পরিকাঠামো তৈরির পালা। সব কিছু ঠিকঠাক এগোলে নভেম্বরের শেষেই প্রথম দফার পুরভোট হতে পারে বাংলায়। প্রথম দফায় কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং—এই সাত পুরসভাকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার আসন্ন পুরভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে জেলাশাসক এবং জেলা মিউনিসিপ্যাল ইলেকশন অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণা গুপ্তা। বৈঠকে ভোটের প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের পাশাপাশি কালিম্পং, দার্জিলিং, ধূপগুড়ি, হলদিয়া এবং ঝাড়গ্রাম পুরসভার আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ হয়েছে।
তবে প্রথম দফার সম্ভাব্য তালিকায় ঝাড়গ্রামের নাম আপাতত নেই। কমিশনের প্রাথমিক প্রস্তুতি অনুযায়ী কলকাতা, হাওড়া, বালি, কালিম্পং, কার্শিয়াং, ধূপগুড়ি এবং হলদিয়াকে প্রথম দফায় ভোটের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। ভোটের চূড়ান্ত তালিকা এবং দিনক্ষণ অবশ্য এখনও ঘোষণা করেনি কমিশন। ফলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়েই আপাতত প্রস্তুতি এগোচ্ছে।
পুরভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আসন সংরক্ষণ। কমিশন জানিয়েছে, কলকাতা ও হাওড়ার ক্ষেত্রে ৭ অক্টোবর এবং অন্য পুরসভাগুলির ক্ষেত্রে ৬ অক্টোবর ফর্ম-বি-তে সংরক্ষণের তালিকা প্রকাশ করার কথা। সেই তালিকা প্রকাশের পর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দাবি-আপত্তি গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রক্রিয়া চলবে। তার পরেই চূড়ান্ত সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশিত হবে। অর্থাৎ প্রার্থী বাছাই থেকে ভোটের প্রস্তুতি—রাজনৈতিক দলগুলির কাছেও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।
ভোটের প্রস্তুতিতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে প্রশাসন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া ইভিএম সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে বরাদ্দ করা হয়েছে। সেগুলি নির্দিষ্ট জেলায় পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইভিএম বিতরণের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কমিশন। ভোটের দিন ঘোষণা না হলেও ইভিএম, বুথ এবং ভোটকর্মী সংক্রান্ত প্রস্তুতি তাই আগেভাগেই শুরু হয়ে গিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি নজর অবশ্য কলকাতা ও হাওড়ার দিকে। কলকাতা পুরনিগমের ভোট নিয়ে যেমন শহরের রাজনৈতিক মহলে প্রস্তুতি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনই হাওড়া পুরসভা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকায় হাওড়ার ভোট আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। বালিও রয়েছে প্রথম দফার সম্ভাব্য তালিকায়।
উত্তরবঙ্গেও পুরভোটের ছবি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কালিম্পং ও কার্শিয়াংয়ের পাশাপাশি ধূপগুড়িকে প্রথম দফায় রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য দিকে শিল্পাঞ্চল হলদিয়াতেও পুরভোটের প্রস্তুতি চলছে। ফলে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ, পাহাড় থেকে শিল্পাঞ্চল—প্রথম দফার সম্ভাব্য সাত পুরসভাকে ঘিরে ভোটের প্রস্তুতির পরিধি বেশ বিস্তৃত।
কমিশনের বৈঠকের পর এখন নজর দু’টি বিষয়ের দিকে—আসন সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা এবং ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি। সংরক্ষণ-পর্ব শেষ হওয়ার পরেই প্রার্থী বাছাই এবং প্রচারের প্রস্তুতিতে গতি আসবে রাজনৈতিক দলগুলির। আর কমিশনের তরফে সূচি ঘোষণা হলেই শুরু হয়ে যাবে পুরভোটের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন।
অর্থাৎ বিধানসভা ভোটের আবহ কাটতে না কাটতেই ফের ভোটের প্রস্তুতিতে বাংলা। এ বার লড়াই বিধানসভা নয়, শহর ও পুর এলাকার দখল নিয়ে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহকে সামনে রেখে আপাতত সেই লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরির কাজই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
