মিরিক, নিউজ ডেস্ক: কয়েকদিন আগে দীর্ঘ অপেক্ষার পর খুলেছিল যাতায়াতের পথ। স্থানীয়দের মধ্যে ফিরে ছিল খানিকটা স্বস্তি। পন্যবাহী গাড়ি চলাচলও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছিল। কিন্তু, পাহাড়ে টানা বৃষ্টির জেরে ফের দেখা গেল বিপত্তি। নদীর জল বাড়তে গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুর পরিস্থিতি বদলে গেল রাতারাতি। যার জেরে মিরিক মুখী যান চলাচলে নতুন করে তৈরি হয়েছে সমস্যা। আর এতেই বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে পর্যটকেরা। নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে সকলকে।
পাহাড়ে অবিরাম বৃষ্টির কারণে দুধিয়া নদীতে জলস্তর ক্রমশ বেড়ে যায়। সেই স্রোতের ধাক্কায় দুদিয়ার হিউম পাইপ ব্রিজটি আবারও ভেসে গিয়েছে। এর ফলে সেতুটি দিয়ে ভারী যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ মাধ্যম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। যে কোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার মিরিক ট্রাক চালক সমিতি পুনর্নির্মাণের পর সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের সমস্যার পর সেতুটি চালু হওয়ায় মিরিকমুখী পণ্য পরিবহনে কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। আবারও বিপর্যয়ের মুখে পড়ল সেতু। এতে যান চলাচলের আবারও বাধার সৃষ্টি হল।
পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বর্ষণে নদীতে জলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হিউম পাইপস সেতুর কিছু অংশ ধুয়ে গিয়েছে। ফলে, সোমবার তৈরি হওয়া সেতুটি কয়েকদিনের মধ্যে আবারও সমস্যার মুখে পড়ল। সেতুটির এই পরিস্থিতির কারণে বাস, গ্যাসবাহী এবং অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহন দুধিয়া নদী দিয়ে মিরিক ও পার্শ্ববর্তী এলাকার দিকে যেতে পারছে না। ফলে, বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে চালকদের। এতে যাত্রা পথ যেমন দীর্ঘ হচ্ছে, তেমনই সময় ও পরিবহনের খরচ বেড়ে চলেছে। দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে নিত্যযাত্রী থেকে ব্যবসায়ীদের। সমস্যার মধ্যে রয়েছে গাড়িচালকেরাও।
তবে, ছোট গাড়ির জন্য আপাতত কিছুটা স্বস্তির কারণ রয়েছে। সেনাবাহিনীর দ্বারা তৈরি বেইলি ব্রিজ দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারছে। ফলে, ছোট গাড়ি গুলি বিকল্প হিসেবে ওই সেতু ব্যবহার করছে। একদিকে, পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টি অন্যদিকে, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এই দুইয়ের জেরে ফের সমস্যায় পড়েছে দুধিয়া ও মিরিকের যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেতুটি দ্রুত মেরামত করে ভারী যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবী উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু বেহাল হয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বহু মানুষ। এই সেতুর সমস্যা কবে মেটে সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষজন।
