JAZZBAAT 24 BANGLA
২৩ সেপ্টে ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
Breaking
ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে চোট, বিগ বসের মেডিক্যাল রুমে সৃজলা গুহ! রাজবীর-নন্দিনীর বিরুদ্ধে উঠছে... বাঁশ-দড়ি-ইটেই বাজিমাত, সুন্দরবনের মাটি থেকে ঢাকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নাগা জনগোষ্ঠীর গল্প স্থান পেল অস্কারের মঞ্চে প্রকৃতির ডাকে ভাঙল প্রোটোকল, মোদীর অনুষ্ঠানে ঘোড়ার কাণ্ডে হাসির রোল পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন! ইরানকে ৩৭-২৩ উড়িয়ে দিল ভারতের নারীবাহিনী সাইকেলে বিশ্বভ্রমণ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছিলেন দুজন বাঙালি ২৬৮ কোটির লেনদেনের রহস্য! কলকাতায় ফের ইডির হানা ৯৫ বছর বয়সে রোজ বিকেলে স্বামীর সমাধিতে হাজির আম্মা ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে চোট, বিগ বসের মেডিক্যাল রুমে সৃজলা গুহ! রাজবীর-নন্দিনীর বিরুদ্ধে উঠছে... বাঁশ-দড়ি-ইটেই বাজিমাত, সুন্দরবনের মাটি থেকে ঢাকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নাগা জনগোষ্ঠীর গল্প স্থান পেল অস্কারের মঞ্চে প্রকৃতির ডাকে ভাঙল প্রোটোকল, মোদীর অনুষ্ঠানে ঘোড়ার কাণ্ডে হাসির রোল পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন! ইরানকে ৩৭-২৩ উড়িয়ে দিল ভারতের নারীবাহিনী সাইকেলে বিশ্বভ্রমণ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছিলেন দুজন বাঙালি ২৬৮ কোটির লেনদেনের রহস্য! কলকাতায় ফের ইডির হানা ৯৫ বছর বয়সে রোজ বিকেলে স্বামীর সমাধিতে হাজির আম্মা

সাইকেলে বিশ্বভ্রমণ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছিলেন দুজন বাঙালি

সাইকেলে বিশ্বভ্রমণ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছিলেন দুজন বাঙালি
ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

নিউজ ডেস্ক: প্রায় এক শতাব্দী আগে ব্রিটিশ শাসনের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে দুই বাঙালি যুবক সাইকেলে চড়ে বিশ্ব জয় করেছিলেন, বিমল মুখার্জি ও রামনাথ বিশ্বাস। ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তাঁদের এই অসাধারণ অভিযাত্রা নতুন আলোয় সামনে এসেছে।

১৯০৩ সালে বর্তমান ওডিশার গঞ্জাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বিমল মুখার্জি, অন্যদিকে, ১৮৯৪ সালের বাংলাদেশের হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন রামনাথ বিশ্বাস। জাপানে অনুষ্ঠিত আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে বিমল মুখার্জি ও রামনাথ বিশ্বাসের বিশ্বভ্রমণ ব্রিটিশদের সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, যেখানে ভারতীয়দের শারীরিক সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতার বিষয়ে নানা ঔপনিবেশিক বদ্ধ ধারণার প্রচলন ছিল।

বিমল মুখার্জি সাইকেলে চষে বেড়ান ইউরোপ ও এশিয়াসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত। অভাবের তাড়নায় কখনো ফটোগ্রাফার, কখনো নাবিক, আবার কখনো খামারে কাজ করে জোগাড় করেছেন ভ্রমণের খরচ। তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে লেখা আছে, এই যাত্রায় তাঁর সাথে দেখা হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী, এমনকি মেরি কুরির মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের। তিনি বিভিন্ন মহাদেশের দূরতম ও অদ্ভুত সব জায়গায় বাঙালিদের দেখা পেয়েছিলেন। তিনি তার লেখনীতে ভূগোল ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে সময় ও স্থানের ভেদ ঘুচিয়ে বাঙালি ডায়াস্পোরাকে একসূত্রে বেঁধেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ মানুষকে স্থানচ্যুত করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বেঙ্গল রেজিমেন্টের হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন অনেক বাঙালি কিন্তু যুদ্ধের পর যখন রেজিমেন্ট ভেঙে দেয়া হয়, তখন তাদের অনেকে দেশে ফিরতে না পেরে আরব ভূমিতে বসবাস শুরু করেছিলেন। তারা অনেকেই আরব নারীদের বিয়ে করেছিলেন। বিমল মুখার্জীর লেখা থেকে এমনটাই জানা যায়।

অন্যদিকে, রামনাথ বিশ্বাসের জীবন ছিল আরও রাজনৈতিক। সিঙ্গাপুরের কেরানি হিসাবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি উপনিবেশবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। রামনাথ তাঁর বিশ্বভ্রমণের অভিজ্ঞতায় সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ ও বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছিলেন। তাঁর আফ্রিকা ভ্রমণবৃত্তান্তে তিনি লিখেছেন, যত দিন না ভারতীয়রা আফ্রিকানদের সঙ্গে সমতাভিত্তিক আচরণ করছে, ততদিন তাদের ইউরোপীয়দের কাছে সম-আচরণের দাবি করার নৈতিক অধিকার নেই। রামনাথ বরাবর ব্রিটিশদের অনুগত বাঙালিদের সমালোচনা করেছেন।

পৃথিবীর দূরতম প্রান্তেও সিলেটি বাঙালিকে পেয়ে যাওয়াটা ছিল বিমল ও রামনাথের ভ্রমণের সাধারণ ঘটনা। যেমন,  বিমল কিউবায় এক সিলেটির দেখা পেয়েছিলেন আর রামনাথ পেয়েছিলেন জাঞ্জিবারে।

গবেষক সৌভিক নাহার মতে, এই সাইকেলযাত্রা কেবল ভ্রমণের আনন্দ ছিল না; এটি ছিল এক উপনিবেশবিরোধী রাজনৈতিক চেতনা বিকাশের মাধ্যম। ট্রেনের জানলার বাইরে ঝাপসা দৃশ্য দেখার চেয়ে সাইকেলের ধীর গতি তাঁদের সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে এই সরাসরি যোগাযোগ তাঁদের ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করেছিল।

তৎকালীন ব্রিটিশরা ভারতীয়দের শারীরিকভাবে দুর্বল ও পরনির্ভরশীল বলে যে ধারণা ছড়িয়েছিল, এই দুই দুঃসাহসী যুবকদের হাজার হাজার কিলোমিটার ধরে সাইকেলের প্রতিটি প্যাডেল ঘোরানোই ছিল সেই ধারণার প্রতি এক একটি নীরব প্রতিবাদ। তাঁরা প্রমাণ করেছিলেন, ভারতীয় পরিচয় কোনো ঔপনিবেশিক ধারণায় সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের এই লড়াই আমাদের শিখিয়েছে যে স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক মুক্তি নয়; এটি মানুষের মর্যাদা, সমতা ও আত্মপরিচয়েরও লড়াই।

বিজ্ঞাপনrrr
11 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

আয়ুর্বেদ দিবস: ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও সুস্থ ভবিষ্যতের সন্ধানে
জানা-অজানা

আয়ুর্বেদ দিবস: ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও সুস্থ ভবিষ্যতের সন্ধানে

নিউজ ডেস্ক: ভারতের জ্ঞান-ঐতিহ্যের ইতিহাসে আয়ুর্বেদ এক অনন্য অধ্যায়। হাজার বছরের পুরোনো এই চিকিৎসা ও জীবনদর্শন শুধুমাত্র রোগ নিরাময়ের কথা বলে না; বরং সুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন এ...

২৩ সেপ্টে ২০২৬, ১০:১২ এএম · 4 মিনিট
একশ বছর পর চীনের এক ইউনিভার্সিটিতে ভুল প্রমাণিত হলেন আইনস্টাইন
জানা-অজানা

একশ বছর পর চীনের এক ইউনিভার্সিটিতে ভুল প্রমাণিত হলেন আইনস্টাইন

নিউজ ডেস্ক: আলবার্ট আইনস্টাইন আমাদের মহাবিশ্বকে দেখার চোখটাই বদলে দিয়েছিলেন। কিন্তু জীবনের শেষভাগে এসে কোয়ান্টাম মেকানিকসের অনিশ্চয়তা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। তাঁর বিখ্যাত সেই উক্তিটি আজও প্রচলিত—‘ঈশ্বর মহাবিশ্...

২২ সেপ্টে ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম · 2 মিনিট
১০০০ বছরের ‘ভবিষ্যৎ পরীক্ষা’য় বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ উত্তর
জানা-অজানা

১০০০ বছরের ‘ভবিষ্যৎ পরীক্ষা’য় বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ উত্তর

নয়াদিল্লি: মানুষ সভ্যতা তৈরি করেছে, প্রযুক্তিকে অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই উন্নতির শেষ কোথায়? এক দিন কি কোনও ভয়াবহ বিপর্যয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতা ভেঙে পড়বে? নাকি ধ্বংসের পরেও মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়াবে, নতুন ...

২০ সেপ্টে ২০২৬, ১১:০৪ পিএম · 4 মিনিট
মহাকাশ থেকে ডন পেটিটের ক্যামেরায় ধরা পড়ল অবিশ্বাস্য দৃশ্য
জানা-অজানা

মহাকাশ থেকে ডন পেটিটের ক্যামেরায় ধরা পড়ল অবিশ্বাস্য দৃশ্য

নয়াদিল্লি: মহাকাশের কালো অন্ধকার। দূরে অসংখ্য নক্ষত্রের ঝিকিমিকি। তার নীচে পৃথিবীর চারপাশে লালচে আলোর আস্তরণ। আর সেই আলোর পর্দা ভেদ করে যেন ধীরে ধীরে উঠে আসছে উজ্জ্বল শুক্রগ্রহ। তারও নীচে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিদ্য...

২০ সেপ্টে ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম · 2 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.