নিউজ ডেস্ক: টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার জেতার পর এবার ২০২৭ সালের অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে তরুণ নির্মাতা থেজা রিওর সিনেমা ‘আং’।
দেখুন: https://x.com/NortheastVibes1/status/2102259501139194247?s=20
এটি থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে ২০২১ সালে একই নামে তার একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ক্লেরমঁ-ফেরাঁ উৎসবে জুরি পুরস্কার পেয়েছিল। সেই গল্পকেই এবার বড় ক্যানভাসে নিয়ে এসেছেন তিনি। টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতায় ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার পুরস্কার জেতা এই সিনেমাটির নির্মাণশৈলী ও ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক জুরিদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে।
কোহিমায় (উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি রাজধানী) জন্ম নেওয়া থেজা রিও নিজের শেকড়, মানুষ ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে ছবিটি বানিয়েছেন। ষাটের দশকের প্রেক্ষাপটে ভারত-মায়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ডের ঘন জঙ্গলে ঘেরা এক নির্জন কনিয়াক গ্রামকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে এর কাহিনি। গ্রামের প্রধান আংবা (অ্যাংলং কনিয়াক) দেখছেন, একে একে সবাই গ্রাম ছেড়ে আমেরিকান মিশনের আশপাশে গড়ে ওঠা নতুন বসতিতে চলে যাচ্ছে।
বেছে নিচ্ছে পশ্চিমা পোশাক, চার্চ, ইংরেজি শিক্ষা এবং নতুন ভাষা। পুরোনো গ্রামে থেকে যান কেবল আংবা, তার অসুস্থ স্ত্রী আর বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে। তারা যেন হারিয়ে যেতে বসা এক সংস্কৃতির শেষ সাক্ষী। এই পরিবারের মধ্য দিয়েই পরিচালক ফুটিয়ে তুলেছেন উপনিবেশ ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের জটিল ইতিহাস।
দেখুন: https://x.com/DDNewslive/status/2102070727583404099?s=20
‘আং’ শুধু একটি সিনেমা নয়; এটি নাগা জনগোষ্ঠীর এক আত্মকথন; যেখানে ব্যক্তিগত বেদনা মিশে গেছে একটি জাতির স্মৃতি ও পরিচয়ের প্রশ্নে। ছবিটি মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস শুধু বিজয়ীদের নয়—প্রান্তিক মানুষের গল্পও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাতার কথায় উঠে এসেছে - “আমি এমন ছবি বানাতে পছন্দ করি, যেখানে আমিও নিজে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকি। যে বিষয় বা ভাবনা নিয়ে আমি নিজেই পুরোপুরি নিশ্চিত, সেই ধরনের ছবি বানাতে চাই না। কারণ সেক্ষেত্রে ছবিটি সহজেই কোনও নির্দিষ্ট এজেন্ডা-নির্ভর হয়ে উঠতে পারে।”
নিজেদের সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে সিনেমাটি দর্শকের কাছে পৌঁছানোয় খুশি নির্মাতা। টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম বিজয়ী হিসেবে এটি সরাসরি অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে সুযোগ পেয়েছে। কারণ, এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বের ছয়টি প্রধান চলচ্চিত্র উৎসবের জয়ী সিনেমাগুলো সরাসরি অস্কারের জন্য বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ভারতের অফিসিয়াল এন্ট্রি হিসেবে লড়বে সন্তোষ দাভাখারের মারাঠি থ্রিলার ‘গোন্ধল’। ফলে ২০২৭ সালের অস্কারের মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ‘আং’ এবং ‘গোন্ধল’—দুটি সিনেমাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
