বিনোদন ডেস্ক: ‘বিগ বস বাংলা’র ঘর থেকে অবশেষে বিদায় নিতে হলো চলতি মরশুমের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত প্রতিযোগী নন্দিনী দত্তকে। তবে কোনো সাধারণ ভোটাভুটি বা এলিমিনেশন নয়, এবার শারীরিক হিংসার আশ্রয় নেওয়ায় তাঁকে সরাসরি শো থেকে বহিষ্কার করেছে বিগ বস কর্তৃপক্ষ। শোয়ের ৬৯তম দিনে নন্দিনীর এই আচমকা বিদায় ঘিরে তোলপাড় নেটপাড়া।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বৃহস্পতিবারের পর্বে। নন্দিনীর দেওয়া ইংরেজি ‘N’ অক্ষর খোদাই করা একটি আংটি ভুলবশত হারিয়ে ফেলেন ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী ও নন্দিনীর প্রেমিক রাজবীর দে। আংটি হারানোর কথা জানতে পেরেই রণমূর্তি ধারণ করেন নন্দিনী। রান্না করার ব্যস্ততার মাঝে রাজবীর আংটিটি খুঁজতে একটু দেরি করতেই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তর্কাতর্কি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রাগের মাথায় ক্যামেরার সামনেই রাজবীরকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেন এবং তাঁর গায়ে একাধিকবার হাত তোলেন নন্দিনী।
ক্যামেরার সামনেই এমন আচরণের শিকার হয়ে চরম অপমানিত বোধ করেন রাজবীর দে। ক্ষোভ সামলাতে না পেরে নিজের গালেই পরপর কয়েকটি চড় মারতে শুরু করেন তিনি। এরপর নন্দিনীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “তুমি সব সীমা পেরিয়ে গিয়েছো, আর পোষাচ্ছে না। এটা শেষ।” তাঁদের মধ্যে এই তুমুল অশান্তি এবং মারধরের দৃশ্যের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘটনাটি দেখে নেটিজেনদের একাংশ রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্ককে ‘টক্সিক রিলেশনশিপ’ বা বিষাক্ত সম্পর্ক বলে আখ্যা দেন। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার প্রেরণা দাসও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে লেখেন, “একটা ছেলে এটা করলে তো এতক্ষণে জেলে থাকত!”
বিগ বসের ঘরে প্রতিযোগীদের জন্য অন্যতম কঠোর নিয়ম হল, কোনও অবস্থাতেই সহ-প্রতিযোগীর গায়ে হাত তোলা বা শারীরিক হিংসায় জড়ানো যাবে না। এর আগেও টাস্ক চলাকালীন সহ-প্রতিযোগী সৃজলা গুহকে ঘোড়া থেকে ফেলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল নন্দিনীর বিরুদ্ধে। তবে এবার রাজবীরের গায়ে সরাসরি হাত তোলার অভিযোগের পর আর কোনওরকম নমনীয়তা দেখায়নি বিগ বস কর্তৃপক্ষ। নিয়মভঙ্গের দায়ে শোয়ের ৬৯তম দিনে নন্দিনীকে সরাসরি বিগ বসের বাড়ি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নন্দিনীর এই আকস্মিক বহিষ্কারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁর বাবা সন্দীপ দত্ত। শুরু থেকেই রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্কের পাশে ছিলেন তিনি। মেয়ের এই পরিণতির পর ফেসবুকে একটি সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন সন্দীপবাবু। লেখেন, “ভালোবাসলে বলিদান দিতেই হবে…।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এবার দর্শকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তবে ঠিক কী ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন তিনি, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভোটাভুটিতে পিছিয়ে পড়ে সাময়িকভাবে বিগ বসের ঘর থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল নন্দিনীকে। কিন্তু দর্শকদের চমকে দিয়ে সিক্রেট রুমের মাধ্যমে ফের শোয়ে ফিরে এসেছিলেন তিনি। তবে এবার শারীরিক হিংসার অভিযোগে সরাসরি বহিষ্কৃত হওয়ার পর তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা কতটা, তা নিয়েই এখন কৌতূহল দর্শকমহলে। নন্দিনীর এই বিদায় কি চূড়ান্ত, নাকি দাদার দরবারে অপেক্ষা করছে আরও কোনও অপ্রত্যাশিত টুইস্ট? আপাতত সেই উত্তরই খুঁজছেন বিগ বসের অনুরাগীরা।




