JAZZBAAT 24 BANGLA
২৪ সেপ্টে ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
Breaking
ভারতে যে গ্রামের নাম শুনলেই বিয়ে দিতে অস্বীকার! আসল কারণ জানলে অবাক হবেন নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মহুয়া মৈত্রের দোতলা বাসের এসিতে বিস্ফোরণ? নয়ডার রাজপথে মর্মান্তিক পরিণতি যাত্রীদের বাথরুমে অ্যাশট্রে? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন এবার কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত, ৩ বছরের সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য বাংলায় আসছে ৪,০৮৫ কোটির সম্ভাব্য আর্থিক সুফল, জানুন কী কী থাকছে অপেক্ষার অবসান? এক কিস্তিতেই বকেয়া DA, কারা পাবেন টাকা এবং কোথায় জমা হবে ৩ হাজার ড্রোন, তারকা শিল্পীদের অনুষ্ঠান, বঙ্গজুড়ে বড় পরিকল্পনা ভারতে যে গ্রামের নাম শুনলেই বিয়ে দিতে অস্বীকার! আসল কারণ জানলে অবাক হবেন নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মহুয়া মৈত্রের দোতলা বাসের এসিতে বিস্ফোরণ? নয়ডার রাজপথে মর্মান্তিক পরিণতি যাত্রীদের বাথরুমে অ্যাশট্রে? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন এবার কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত, ৩ বছরের সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য বাংলায় আসছে ৪,০৮৫ কোটির সম্ভাব্য আর্থিক সুফল, জানুন কী কী থাকছে অপেক্ষার অবসান? এক কিস্তিতেই বকেয়া DA, কারা পাবেন টাকা এবং কোথায় জমা হবে ৩ হাজার ড্রোন, তারকা শিল্পীদের অনুষ্ঠান, বঙ্গজুড়ে বড় পরিকল্পনা

আয়ুর্বেদ দিবস: ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও সুস্থ ভবিষ্যতের সন্ধানে

আয়ুর্বেদ দিবস: ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও সুস্থ ভবিষ্যতের সন্ধানে
ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

নিউজ ডেস্ক: ভারতের জ্ঞান-ঐতিহ্যের ইতিহাসে আয়ুর্বেদ এক অনন্য অধ্যায়। হাজার বছরের পুরোনো এই চিকিৎসা ও জীবনদর্শন শুধুমাত্র রোগ নিরাময়ের কথা বলে না; বরং সুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন এবং শরীর ও মনের ভারসাম্যের ওপর গুরুত্ব দেয়। সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং আধুনিক গবেষণার আলোকে তার সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করার উদ্দেশ্যেই পালিত হয় আয়ুর্বেদ দিবস।

২৩ সেপ্টেম্বরেই কেন আয়ুর্বেদ দিবস?

ভারত সরকার ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতি বছর ২৩ সেপ্টেম্বর আয়ুর্বেদ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ধনতেরাসের দিন আয়ুর্বেদ দিবস পালিত হতো। কিন্তু ধনতেরাস চন্দ্রপঞ্জিকা নির্ভর হওয়ায় প্রতিবছর তারিখ পরিবর্তিত হতো। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নির্দিষ্ট দিনে কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিত।

২৩ সেপ্টেম্বরকে বেছে নেওয়ার পিছনে একটি প্রতীকী তাৎপর্যও রয়েছে। এই সময়ের কাছাকাছি ঘটে শরৎ বিষুব,যখন দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান। প্রকৃতির এই ভারসাম্যের সঙ্গে আয়ুর্বেদের শরীর, মন ও পরিবেশের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার দর্শনের একটি প্রতীকী মিল রয়েছে।

‘আয়ুর্বেদ’ শব্দের অর্থ কী?

‘আয়ুর্বেদ’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘আয়ু’ এবং ‘বেদ’ শব্দ থেকে। ‘আয়ু’ অর্থ জীবন এবং ‘বেদ’ অর্থ জ্ঞান বা বিজ্ঞান। অর্থাৎ, আয়ুর্বেদকে আক্ষরিক অর্থে বলা যায় ‘জীবনের জ্ঞান’ বা ‘Science of Life’।

আয়ুর্বেদের মূল ভাবনার মধ্যে রয়েছে শুধু অসুস্থ হলে চিকিৎসা নয়, বরং সুস্থ অবস্থায় স্বাস্থ্য রক্ষা এবং অসুস্থতার ক্ষেত্রে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থতা ফিরিয়ে আনা। সরকারি আয়ুষ সংক্রান্ত নথিতেও আয়ুর্বেদের এই প্রতিরোধমূলক ও স্বাস্থ্যরক্ষাকারী দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আয়ুর্বেদের মূল দর্শন: শরীর, মন ও প্রকৃতির ভারসাম্য

আয়ুর্বেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল মানুষের স্বাস্থ্যকে সামগ্রিকভাবে দেখা। খাদ্য, ঘুম, দৈনন্দিন জীবনযাপন, শারীরিক সক্রিয়তা, মানসিক সুস্থতা এবং পরিবেশ সবকিছুর পারস্পরিক সম্পর্ককে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়ুর্বেদের বহুল পরিচিত বাত, পিত্ত ও কফ ধারণা মানুষের শারীরিক ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করার একটি ঐতিহ্যগত কাঠামো। তবে এই ধারণাগুলিকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখা উচিত নয়। আধুনিক সময়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও ওষুধের কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঐতিহ্য থেকে গবেষণার পথে

আয়ুর্বেদকে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রমাণ। ভারতের আয়ুষ মন্ত্রকের অধীনে Central Council for Research in Ayurvedic Sciences বা CCRAS আয়ুর্বেদ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে। পাশাপাশি Ayush Research Portal-এ আয়ুর্বেদসহ বিভিন্ন AYUSH পদ্ধতি নিয়ে গবেষণার তথ্য ও প্রকাশনা সংকলিত করা হয়।

আন্তর্জাতিক স্তরেও আয়ুর্বেদ নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আয়ুর্বেদ চর্চার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মান, নিরাপত্তা, গুণমান, প্রশিক্ষণ, পরিষেবা প্রদান এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে WHO Benchmarks for the Practice of Ayurveda প্রকাশ করেছে।

WHO-এর বর্তমান Traditional Medicine Strategy-তেও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতিকে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গুণমান এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। WHO স্পষ্টভাবে বলেছে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বা ব্যবহার থাকলেই কোনও চিকিৎসা-পদ্ধতির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয় না; যথাযথ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালের আয়ুর্বেদ দিবস: সুস্থ ভবিষ্যতের বার্তা

২০২৬ সালে পালিত হচ্ছে ১১তম আয়ুর্বেদ দিবস। এ বছরের সরকারি থিম-

“Ayurveda for a Healthier Tomorrow”

“স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যতের জন্য আয়ুর্বেদ”

এই বছরের কর্মসূচিতে আয়ুর্বেদকে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যচাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রমাণভিত্তিক গবেষণা, উদ্ভাবন, নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ নাগপুরে জাতীয় স্তরের মূল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে।

আয়ুর্বেদ দিবস উপলক্ষে ২০২৬ সালে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ডসিয়ার, বিভিন্ন নির্দেশিকা ও প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি CCRAS-এর গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন আজও গুরুত্বপূর্ণ আয়ুর্বেদ?

আজকের দ্রুতগতির জীবনে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অপর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও মানসিক চাপ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত জীবনযাপন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং শরীর-মন সম্পর্কে সচেতনতা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

আয়ুর্বেদের ঐতিহ্যগত জ্ঞান এই জীবনযাপনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তবে আধুনিক যুগে সেই জ্ঞানকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের পরামর্শ এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রতি আস্থা।

বিশেষ করে ভেষজ বা প্রাকৃতিক উপাদানকে ‘প্রাকৃতিক’ বলেই সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত মনে করা ঠিক নয়। ওষুধের গুণমান, মাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে সম্ভাব্য পারস্পরিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। WHO-ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় রোগীর নিরাপত্তা, পণ্যের গুণমান এবং যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ঐতিহ্য ও আধুনিক বিজ্ঞানের সেতুবন্ধন

আয়ুর্বেদের ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র তার প্রাচীনত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রাচীন জ্ঞানকে আধুনিক গবেষণা, প্রযুক্তি, ক্লিনিক্যাল স্টাডি, গুণমান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার মানদণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করাই হতে পারে তার বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ পথ।

আয়ুর্বেদ দিবস তাই অতীতকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দিকে তাকানোরও একটি উপলক্ষ। প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানভাণ্ডারের মূল্যকে সম্মান জানিয়ে, একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও প্রমাণের গুরুত্বকে স্বীকার করে এগিয়ে যাওয়াই হতে পারে এই ঐতিহ্যের আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা।

আয়ুর্বেদ দিবসের মূল বার্তা তাই শুধু ‘প্রাচীনকে ফিরিয়ে আনা’ নয়, বরং ঐতিহ্যকে গবেষণার আলোয় দেখা, সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বকে সামনে আনা এবং নিরাপদ ও প্রমাণভিত্তিক স্বাস্থ্যচর্চার দিকে এগিয়ে যাওয়া।

সুস্থ শরীর, সুস্থ মন এবং সচেতন জীবনযাপনের লক্ষ্যে, আয়ুর্বেদ হোক জ্ঞান, গবেষণা ও দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যচর্চার এক সেতুবন্ধন।

বিজ্ঞাপনrrr
61 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

বাথরুমে অ্যাশট্রে? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন
জানা-অজানা

বাথরুমে অ্যাশট্রে? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন

নিউজ ডেস্ক: বিমানে উঠলেই যাত্রীদের একাধিকবার জানানো হয়, বিমানে ধূমপান নিষিদ্ধ। কিন্তু কখনও বিমানের বাথরুমে ঢুকে লক্ষ্য করেছেন কি, দরজার কাছে ছোট্ট একটি অ্যাশট্রে রয়েছে? প্রথম দেখায় বিষয়টি বেশ অদ্ভুত মনে হতে পারে। যেখানে ...

২৪ সেপ্টে ২০২৬, ১০:৫৪ এএম · 2 মিনিট
ফুটন্ত জলেও সচল কোষ, নয়া অ্যামিবার সন্ধান, ভিনগ্রহে প্রাণের দিশা বিজ্ঞানীদের
জানা-অজানা

ফুটন্ত জলেও সচল কোষ, নয়া অ্যামিবার সন্ধান, ভিনগ্রহে প্রাণের দিশা বিজ্ঞানীদের

নিউজ ডেস্ক: উত্তপ্ত জল যেখানে অধিকাংশ প্রাণীর পক্ষেই মরণফাঁদ, সেখানেই অনায়াসে ঘুরে বেড়াচ্ছে আণুবীক্ষণিক এক জীব। সম্প্রতি জীববিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে এককোষী এক বিশেষ অ্যামিবা, চরম তাপ সহ্য করার ক্ষমতার দিক থেকে যা জীববিজ্ঞা...

২৩ সেপ্টে ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম · 2 মিনিট
সাইকেলে বিশ্বভ্রমণ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছিলেন দুজন বাঙালি
জানা-অজানা

সাইকেলে বিশ্বভ্রমণ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছিলেন দুজন ব...

নিউজ ডেস্ক: প্রায় এক শতাব্দী আগে ব্রিটিশ শাসনের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে দুই বাঙালি যুবক সাইকেলে চড়ে বিশ্ব জয় করেছিলেন, বিমল মুখার্জি ও রামনাথ বিশ্বাস। ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তাঁদের এই অসাধারণ অভ...

২৩ সেপ্টে ২০২৬, ১২:১০ পিএম · 2 মিনিট
একশ বছর পর চীনের এক ইউনিভার্সিটিতে ভুল প্রমাণিত হলেন আইনস্টাইন
জানা-অজানা

একশ বছর পর চীনের এক ইউনিভার্সিটিতে ভুল প্রমাণিত হলেন আইনস্টাইন

নিউজ ডেস্ক: আলবার্ট আইনস্টাইন আমাদের মহাবিশ্বকে দেখার চোখটাই বদলে দিয়েছিলেন। কিন্তু জীবনের শেষভাগে এসে কোয়ান্টাম মেকানিকসের অনিশ্চয়তা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। তাঁর বিখ্যাত সেই উক্তিটি আজও প্রচলিত—‘ঈশ্বর মহাবিশ্...

২২ সেপ্টে ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম · 2 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.