নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরশুমে বাজারের ছবিটা যে এতটা বদলে যাবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেননি। কোথাও গয়নার দোকানে ক্রেতাদের লম্বা লাইন, কোথাও আবার নতুন গাড়ির চাবি হাতে বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা। সোনা-রুপোর থেকে শুরু করে গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স কেনাকাটার উৎসাহ ছিল প্রায় সর্বত্র। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে উৎসবের বাজারে এমন প্রাণ ফেরার ইঙ্গিত মিলতেই ব্যবসায়ী মহলেও খুশির হাওয়া।
২০২৬ সালের ধনতেরাসে দেশের খুচরো ব্যবসায় তৈরি হয়েছে নতুন নজির। কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT)- এর হিসাব অনুযায়ী এবারের ধনতেরাসে সারাদেশে মোট ব্যবসার পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ছুঁয়েছে। গত ৬ বছরের মধ্যে এটি অন্যতম সেরা বাজার। বিশেষ করে করোনা অতিমারির পর এই প্রথম উৎসবের বাজারে এত বড় অঙ্কের ব্যবসা দেখা গেল।
এবারের ধনতেরাসে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সোনা ও রুপোর বাজার। এই দুই মূল্যবান ধাতুর গয়না, কয়েন এবং অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি থেকেই এসেছে প্রায় ৬৬ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা। সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দামে কিছুটা সংশোধন হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে, দাম বেশি থাকাই ভারী গয়নার পরিবর্তে হালকা ওজনের গয়না বিশেষ করে ১৪ ও ১৮ ক্যারাটের অলংকারের চাহিদা বেশি ছিল। পাশাপাশি রুপোর কয়েন ও বাসনও কিনেছে বহু মানুষ।
অল ইন্ডিয়া জুয়েলার্স এন্ড গোল্ডস্মিথ ফেডারেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধনতেরাসের প্রথম দিনেই গত বছরের তুলনায় গয়নার বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে, সোনার দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুধুমাত্র গয়নার বাজার নয়, গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সাড়া মিলেছে। মারুতি, সুজুকি, হুন্ডাই টাটা মোটরসের মতো সংস্থাগুলির শোরুমে নতুন গাড়ি কেনার উৎসাহ দেখা গিয়েছে। ফ্রিজ, এসি, ওভেনের মত বৈদ্যুতিক সামগ্রীর বিক্রিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
পাশাপাশি দেশীয় পণ্য ও স্থানীয় কারিগরদের তৈরি সামগ্রির চাহিদাও বেড়েছে। মাটির প্রদীপ, পুজোর সামগ্রী এবং বিভিন্ন হস্তশিল্প কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন ক্রেতারা। সব মিলিয়ে এবারের ধনতেরাসের বাজার বুঝিয়ে দিল, উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রেতাদের কেনাকাটার আগ্রহ আবারও জোরালো হচ্ছে। করোনা পরবর্তী সময়ে খুচরো ব্যবসার ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।




