নিউজ ডেস্ক: বাজছে সাইরেন,দ্রুতগতিতে ছুটছে গাড়ি, জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন স্ট্রেচারে।আর সেই চরম সংকটের মুহূর্তেই অ্যাম্বুল্যান্সের ভেতর নিজের ফোনের ক্যামেরা তাক করে ইনস্টাগ্রাম রিল তৈরিতে মগ্ন এক তরুণী! সামাজিক মাধ্যমে তথাকথিত 'লাইক' ও 'ভিউ'-এর পাওয়ার লোভ মানুষকে কতটা অসংবেদনশীল ও নিষ্ঠুর করে তুলতে পারে, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি দৃশ্য তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
দেখুন: https://x.com/RT_com/status/2101704453938114633?s=20
ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি রোগী নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুল্যান্স অত্যন্ত দ্রুত গতিতে হাসপাতালের দিকে ছুটছে। ভিতরে চিকিৎসাধীন ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা যে অত্যন্ত সংকটজনক, তা তাঁর শারীরিক অস্থিরতা ও চারপাশে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জাম দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায় কিন্তু সেই চরম উৎকণ্ঠার পরিবেশের তোয়াক্কা না করে অ্যাম্বুল্যান্সের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ভিডিও রেকর্ড করতে ব্যস্ত ওই তরুণী। তাঁর চোখেমুখে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কোনো উদ্বেগ নেই,উল্টে ক্যামেরার লেন্সে নিজের উপস্থিতি ও নিখুঁত পোজ ফুটিয়ে তুলতেই তিনি বেশি মরিয়া।
ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। চিকিৎসা পরিষেবার মতো একটি স্পর্শকাতর ও জরুরি পরিসরে কীভাবে কেউ এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করতে পারে, তা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। অনেকেই অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ও সহকারীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন,জরুরি রোগীদের জীবন বাঁচানোর জায়গায় কীভাবে একজন ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত বিনোদনের এমন সুযোগ দেওয়া হল?
চিকিৎসকরা বলেন, অ্যাম্বুল্যান্সে রোগীর প্রতিটি সেকেন্ড মহামূল্যবান, সেখানে এমন বিভ্রান্তিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ রোগীর প্রাণহানির বড় কারণ হতে পারত।
মনোবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, নেটদুনিয়ায় সস্তা জনপ্রিয়তার নেশা এখন মানুষের ন্যূনতম সহমর্মিতা ও বিবেকবোধকেও ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। অন্যের মৃত্যুযন্ত্রণা বা বিপর্যয়ও অনেকের কাছে স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্ট তৈরির উপাদানে পরিণত হচ্ছে। ভাইরাল হওয়ার এই বিকৃত মানসিকতার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ ও হাসপাতাল পরিবহন আইনের আওতায় জরিমানার দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকরা।