আধার কার্ড আর একটি ব্যক্তির চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কোনো ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করছেন কি না, তার প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড গ্রহণযোগ্য। তবে সেটি চূড়ান্ত প্রমাণ কিনা তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের বা বৈধ দখলের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। আধার কার্ড তৈরির আগে ঠিকানার তথ্য যাচাই করা হয়। তাই কোনো ব্যক্তি কোথায় বসবাস করেন, তার প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ডকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা যায় না। একইসঙ্গে ভোটার কার্ড, গ্যাসের বিল-সহ অন্যান্য সরকারি নথি বাসস্থানের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আদালতে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রায় ৫০০-টিরও বেশি আবাসিক কোয়ার্টার উচ্ছেদ ও ভাঙার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। ওখানের কোয়ার্টারগুলিতে প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনও নোটিস বা শুনানির সুযোগ না দিয়েই উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতিপূর্বেও হাইকোর্টের একক বেঞ্চ জানিয়েছিল, আধার বা ভোটার কার্ড দেখে নিশ্চিতভাবে বৈধ দখল প্রমাণ করা যায় না। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যান বাসিন্দারা। অন্যদিকে, আধার বা ভোটার কার্ড দেখিয়ে কেউ বসবাসের আইনি অধিকার দাবি করতে পারেন না বলে দাবি জানিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নথির ভিত্তিতে বাসিন্দারা ওই এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাস করছে তা স্পষ্ট। তাই তাঁদের অবৈধ দখলদার ঘোষণা করার আগে আইন মেনে তদন্ত, নোটিস প্রদান এবং শুনানির সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক পরিবারকে নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশের সুযোগ দিতে হবে। আগে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে। এর পরেই উচ্ছেদ বা ভাঙার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে। এছাড়াও আদালতের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্বভাবে ভবন ভেঙে ফেলার ক্ষমতা নেই। প্রয়োজনে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।