স্পোর্টস ডেস্ক: মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই অভিষেক শর্মাকে নিয়ে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি দেখল ক্রিকেট দুনিয়া। আগের সপ্তাহেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৪ বলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন ভারতীয় ওপেনার।মঙ্গলবার সেই তিনিই জাপানের বিরুদ্ধে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নেমে গোল্ডেন ডাক! সানোতে প্রথম বলেই জাপানের অলরাউন্ডার চার্লি হারা-হিনজের বলে আউট হয়ে যান অভিষেক। এর ফলে তাঁর নামের পাশে জুড়ে গিয়েছে এক লজ্জার রেকর্ডও। একটি বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০ বার শূন্য রানে আউট হওয়া প্রথম ব্যাটার হয়ে গিয়েছেন অভিষেক।
জাপানের বিরুদ্ধে মাত্র এক বলেই ফিরে যাওয়ার আগে অবশ্য চলতি বছরে একাধিকবারই ঝলসে উঠতে দেখা গিয়েছে অভিষেকের ব্যাটকে। দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাত্র ৩০ বলে শতরান করেছিলেন তিনি। তাঁর সেই ইনিংসে ছিল একাধিক বড় শট। যার সুবাদে ভেঙে দেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলির মধ্যে ফিন অ্যালেনের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। একই সঙ্গে ভেঙে যায় ভারতের হয়ে রোহিত শর্মার ৩৫ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও।
কিন্তু সেই রেকর্ড গড়ার পরের ম্যাচেই পুরোপুরি উল্টো ছবি। জাপানের বিরুদ্ধে খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন টিম ইন্ডিয়ার বাঁহাতি ওপেনার। ফলে চলতি বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর 'ডাক' অর্থাৎ শূন্য রানের ইনিংসের সংখ্যা দাঁড়াল ১০। এর আগে এই তালিকায় ৯টি করে ডাক নিয়ে শীর্ষে ছিলেন রশিদ খান ও শাদাব খান। রশিদ ২০১৯ সালে এবং শাদাব ২০২৪ সালে এক বছরে ৯ বার শূন্য রানে ফিরেছিলেন। মঙ্গলবার তাঁদের ছাপিয়ে গেলেন অভিষেক। অর্থাৎ একই সময়ে একদিকে দ্রুততম শতরানের মতো বড় কীর্তি, অন্য দিকে ডাকের সংখ্যায় অনভিপ্রেত লজ্জার রেকর্ড—চলতি বছরটা অভিষেকের জন্য দুই বিপরীত পরিসংখ্যানেরই সাক্ষী হয়ে থাকল।
উল্লেখ্য, অভিষেকের আগের ইনিংসটি নিয়ে প্রশংসা করেছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক সনৎ জয়সূর্য। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারতীয় দলে অভিষেক নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং দলের জন্য তাঁর ভূমিকা ও গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি অবগত। কিন্তু জাপানের বিরুদ্ধে অবশ্য সেই প্রত্যাশা পূরণ করার সুযোগই পাননি ভারতীয় ওপেনার। প্রথম বলেই শেষ হয়ে যায় তাঁর ইনিংস। ফলে দিনের শেষে সঙ্গী হল একরাশ লজ্জাই।