কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং নন্দীগ্রামে মমতা-শিবিরের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসের দিকে বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অধীররঞ্জনের বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাইলে তৃণমূলের কোনও শিবিরে না গিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আসা উচিত। নিজের বক্তব্যের পক্ষে কংগ্রেসকে ‘বটগাছ’ এবং তৃণমূলকে সেই গাছের ‘ঝরা পাতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। অধীর বলেন, “যাঁরা বিজেপি বিরোধী, তাঁরা এক হোন। কংগ্রেস একটা বটগাছ, বটের ঝরা পাতা ছিল তৃণমূল। আপনারা সরাসরি বটবৃক্ষের ছায়ায় আসুন।”
নন্দীগ্রামে বদলে গেল সমীকরণ
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে শুক্রবার বড় পরিবর্তন দেখা যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত।
তবে অধীররঞ্জন জানিয়েছেন, কংগ্রেস তৃণমূলের সমর্থন চায়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূল নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করার পর সমর্থনের ঘোষণা করেছে। এই ঘটনার পর নন্দীগ্রামের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা।
‘নির্বাচনী সার্কাস শুরু হয়ে গিয়েছে’
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও সরব হন অধীর। তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে দাবি করেন, নির্বাচনের আগে ‘নির্বাচনী সার্কাস’ শুরু হয়ে গিয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তকে তিনি বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগের সঙ্গেও যুক্ত করেন।
তাঁর এই অভিযোগ অবশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে দুই তৃণমূল শিবিরকেই পুরনো ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারের উপর অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে।
তৃণমূলকে নিয়ে অধীরের কটাক্ষ
নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে অধীর বলেন, মমতার শিবিরকে এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একইসঙ্গে রেজিনগর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।তাঁর দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য কংগ্রেসের নেতৃত্বেই বিরোধী শক্তিকে একত্রিত হওয়া উচিত। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে জাতীয় স্তরে কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করলেও রেজিনগর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। ফলে আগামী দিনে এই দুই আসনে বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ কী দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।