নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিতর্ক এবং একাধিক নেতার শিবির বদলের আবহে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ তুললেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
অগ্নিমিত্রার বক্তব্যের মূল সুর ছিল—রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইকে অস্বীকার করা যায় না। একইসঙ্গে যাঁরা বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতার সঙ্গ ছেড়ে অন্য শিবিরে গিয়েছেন, তাঁদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অগ্নিমিত্রা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো লড়াই করেছিলেন, সেটা তো অস্বীকার করতে পারি না। কিন্তু আজকে যাঁরা তাঁর হাত ছেড়ে দিলেন, এটাও কিন্তু একটা শিক্ষার।” তাঁর প্রশ্ন, “লয়্যালটি কোথায় গেল রাজনীতিতে? আজ ক্ষমতায় নেই বলে ছেড়ে চলে গেলেন?”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বর্তমানে যে সাংগঠনিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে অগ্নিমিত্রার বক্তব্যে। তিনি বলেন, একটা সময় রাজনৈতিক বক্তব্যে তৃণমূলের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যাবে, তা তিনি ভাবেননি। তাঁর মতে, রাজনীতিতে ঔদ্ধত্য, নিজেকে সর্বোত্তম মনে করা এবং মানুষকে যথাযথ সম্মান না দেওয়ার পরিণতি নিয়ে এই পরিস্থিতি একটি শিক্ষা হতে পারে।
বর্তমানে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে দলীয় পরিচয়, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে বিরোধ চলছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে আসন্ন উপনির্বাচনে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়তে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মমতা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়েও পরিস্থিতি বদলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা। এই সিদ্ধান্তও রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও এসেছে। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নেতা প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, মন্ত্রী কেন তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এতটা চিন্তিত হচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, মমতা অতীতে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইউপিএ-র সঙ্গে গিয়েছিলেন তাই বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান বদলকে শুধু ন্যায়-অন্যায়ের মাপকাঠিতে বিচার করা উচিত কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ও অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইতিহাস দলত্যাগীদের কীভাবে বিচার করে, তা মানুষ জানে।
ফলে অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ, অন্যদিকে দলবদল ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন দুই বিষয়ই এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে। একই সময়ে দলীয় নাম-প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে, ফলে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।