খড়গপুর, রেশমি ব্যানার্জি: চোখের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিপদ। যে কেউ ঘাবড়ে যেতে পারেন সেই সময়। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে বিপদ থেকে বেরিয়ে আসাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আর এমনই এক বিপদের সম্মুখীন হয়েও নিজেদের বুদ্ধি খাটিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচালেন খড়গপুর ডিভিশনের রেলকর্মীরা। লাইনের পাশের মাটি ধসে তৈরি হয়েছিল ভয়াবহ পরিস্থিতি। কিন্তু চালক ও রেলকর্মীদের সতর্কতা এবং উপস্থিত বুদ্ধিতে রক্ষা পেল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস-সহ একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন। তাঁদের দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচ রেলকর্মীকে বিশেষ সম্মান জানাল ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ ও ১৭ -ই অগস্ট ৬৮১৭৩ লোকাল চালানোর সময় বেটনটি ও ভঞ্জপুরের মাঝামাঝি আচমকাই ট্রেনের অস্বাভাবিক দুলুনি টের পান মোটরম্যান চন্দ্রকান্ত কুমার ও সিনিয়র সহকারী লোকো পাইলট নরেশ কুমার বৈরবা। বিপদের আঁচ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দেন মোটরম্যান। পরে ট্রেন থেকে নেমে তারা দেখতে পান লাইনের ধার ঘেঁষে মাটি বিপজ্জনক ভাবে ধসে গিয়েছে। খবর দেওয়া হয় কর্তৃপক্ষকে। দ্রুত শুরু হয় মেরামতির কাজ।
এই ঘটনার পর ২০ শে অগস্ট ফের বড় বিপদের ইঙ্গিত মেলে রাঁচি-হাওড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে। দ্রুতগতির ট্রেনে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন লোকো পাইলট কৌশিক মজুমদার ও সিনিয়র সহকারী লোকো পাইলট দিলশাদ আলম। মুহূর্তের মধ্যে গতি কমিয়ে রেল আধিকারিকদের সতর্ক করেন তাঁরা। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, লাইনের একেবারে পাশের মাটি আলগা হয়ে ধস নেমেছে। তাদের এই তৎপরতায় কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে যান ট্রেনের যাত্রীরা।
এছাড়াও গত ২৬ জুলাই মারকোনা স্টেশনে ঢোকার মুখে ১২৮২২ ডাউন ট্রেনের একটি কামরা থেকে ধোঁয়া বেরোতেও দেখেন সিএলআই সুভাষ চন্দ্র সুবুদ্ধি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নিজের দায়িত্বে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে দেন এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আনেন। তার এই তৎপরতার কারণে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় যাত্রীরা।
পরপর ঘটে যাওয়া এই তিনটি ঘটনায় রেল কর্মীদের উপস্থিত বুদ্ধি ও তৎপরতার কারণে বড়সড়ো বিপদ এড়ানো গিয়েছে। প্রাণ বেঁচেছে বহু যাত্রী। আর তাদের এই কাজের জন্যই বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয় এই রেল কর্মীদের। খড়গপুর ডিভিশনের ডিআরএম ললিত মোহন পাণ্ডে পাঁচ রেলকর্মীর হাতে তুলে দেন আর্থিক পুরস্কার ও মানপত্র। কর্তব্যের প্রতি তাঁদের নিষ্ঠা, সাহসিকতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে বিশেষ ভাবে প্রশংসা করা হয়। তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
সামান্য সতর্কতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জন্য রক্ষা পেল শত শত প্রাণ। রেল কর্মীদের এই তৎপরতা দেখিয়ে দিল দায়িত্ববোধ যদি সঠিকভাবে পালন করা হয় তাহলে যে-কোনও দুর্ঘটনার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব। গোটা বঙ্গের মানুষদের কাছে গর্বের এই পাঁচ রেলের মহাযোদ্ধা।