বেঙ্গালুরু: পানশালায় পুলিশের সঙ্গে বচসা, গালিগালাজ এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর হামলার চেষ্টার অভিযোগে বড়সড় শাস্তির মুখে অন্ধ্রপ্রদেশের আইএএস আধিকারিক বিকাশ মারমত। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হওয়ার পরেই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিল অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। ২০১৯ ব্যাচের এই আইএএস আধিকারিককে আপাতত সাধারণ প্রশাসন দফতরে (জিএডি) রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী দায়িত্ব কী হবে, তা পরে জানানো হবে। বেঙ্গালুরুর একটি পানশালায় গভীর রাতে পুলিশের তল্লাশির সময় এই ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ।
বিকাশ মারমত অন্ধ্রপ্রদেশের কুপ্পম এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (কাডা) প্রকল্প অধিকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কুপ্পম অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নায়ডুর বিধানসভা কেন্দ্র। ফলে ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে প্রশাসনিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই দ্রুত পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার।
ঘটনার সূত্রপাত ১০ অক্টোবর গভীর রাতে। বেঙ্গালুরুর রেসিডেন্সি রোডের ক্যাভোর নামে একটি পানশালা ও রেস্তরাঁয় তল্লাশি চালাতে যায় কেন্দ্রীয় অপরাধ দমন শাখার (সিসিবি) একটি দল।
শহরের পানশালাগুলিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ্যপান এবং নিয়মভঙ্গের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ওই অভিযান চালানো হচ্ছিল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক অরুণ সালুঙ্কে। রাত দেড়টা নাগাদ সেখানে পৌঁছে গ্রাহকদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করতে শুরু করেন পুলিশকর্মীরা। কয়েক জন তরুণীর বয়স যাচাই করার জন্য তাঁদের নথি দেখাতে বলা হয়েছিল। পুলিশের অভিযোগ, এই পরিচয়পত্র পরীক্ষার বিষয়টি নিয়েই আপত্তি জানান বিকাশ ও তাঁর বন্ধু অভয় উদয় সিংহ। পুলিশ কেন গ্রাহকদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইছে, কোন ক্ষমতাবলে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে—তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন।
পুলিশকর্মীরা জানান, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে মদ বিক্রি আটকাতে এবং নিয়মভঙ্গের ঘটনা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান। কিন্তু অভিযোগ, তার পরেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং বিকাশ নিজেকে আইএএস আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
অভিযোগ, বচসার এক পর্যায়ে পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা প্রয়োগ করেন বিকাশ। তাঁর বন্ধু অভয় এক পুলিশ আধিকারিককে ধাক্কা দেন এবং হামলার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ। সঙ্গে থাকা নীতীশ ও রোশন নামে আরও দু’জনের বিরুদ্ধেও পুলিশকর্মীদের গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কি করার অভিযোগ উঠেছে। রোশন ওই পানশালার বাউন্সার বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার ভিডিয়ো পরে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অভিযুক্তদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের দৃশ্য দেখা যায় বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় বিকাশকে মূল অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে বেঙ্গালুরুর কাব্বন পার্ক থানার পুলিশ। তাঁর সঙ্গে অভয় উদয় সিংহ, নীতীশ এবং রোশনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, তাঁদের ভয় দেখানো এবং আঘাত করার অভিযোগ-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করেন পুলিশ পরিদর্শক অরুণ সালুঙ্কে। ঘটনার পর তাঁর চিকিৎসা করাতে হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার পরের দিন সকালে বিকাশ ও তাঁর সঙ্গীরা নিজেদের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে তাতে তদন্ত থামেনি। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরেই অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের উপর অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ বাড়ে। মুখ্যমন্ত্রী নায়ডু মুখ্যসচিবকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পরেই বিকাশকে অবিলম্বে বদলি করে সাধারণ প্রশাসন দফতরে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। কুপ্পম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প অধিকর্তার দায়িত্ব সামলাতে চিত্তুরের জেলাশাসককে বিকল্প ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আধিকারিকদের আচরণ ও দায়িত্ববোধ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনায়। পুলিশের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, প্রশাসনিক পদমর্যাদার পরিচয় দিয়ে আইন প্রয়োগে বাধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুতর বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।





