নিউজ ডেস্ক: অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালীন ভোররাতে তাঁর বাবা-মা-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতা ও কর্মীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৩টে ৪৫ মিনিট নাগাদ। পুলিশি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ন্যায়বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিয়ে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে।
আটক হওয়া কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে ছিলেন পবন খেরা, ইমরান প্রতাপগড়ি, জ্যোথিমণি, আর সুদা, সুপ্রিয়া শ্রীনাতে, উদয় ভানু চিব, বিনোদ জাখর এবং বরুণ চৌধুরী। তাঁদের সঙ্গে অঙ্কিতার বাবা-মাকেও পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে সূত্রের খবর।
https://x.com/Anand_Journ/status/2110502847452516838?s=20
উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ডের ১৯ বছরের তরুণী অঙ্কিতা ভাণ্ডারি ঋষিকেশের কাছে একটি রিসর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পরে চিল্লা খাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় রিসর্টের মালিক পুলকিত আর্য এবং তাঁর দুই সহযোগীকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে ২০২৫ সালের মে মাসে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
তবে মামলায় কথিত প্রভাবশালী ‘ভিআইপি’-র ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। অঙ্কিতার পরিবার ও আন্দোলনকারীদের দাবি, এই দিকটি খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, দুষ্যন্ত কুমার গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভস্থলে অঙ্কিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। এরপর ভোররাতে পুলিশি আটকের ঘটনা সামনে আসতেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয় কংগ্রেস।
কংগ্রেস নেতারা এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের আটক করার পরিবর্তে মামলার প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।




