স্পোর্টস ডেস্ক: সোনার লক্ষ্যে নামবে পুরুষদের ক্রিকেট এবং হকি দল। তার আগেই শনিবারের দিনটা ভারতের জন্য হয়ে থাকল এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। প্রতিযোগিতার ১৪ তম দিনে সকাল থেকেই একের পর এক সাফল্যে উজ্জ্বল ভারত। তিরন্দাজি থেকে গল্ফ, দু’টি ইভেন্টেই এল ঐতিহাসিক সোনা। প্রথমে মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ তিরন্দাজিতে সোনা জিতে নজির গড়লেন কুমকুম মহোদ। অন্যদিকে মহিলাদের ব্যক্তিগত গল্ফেও সোনা জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন প্রণবী উর্স। শুধু ব্যক্তিগত ইভেন্টেই নয়, দলগত গল্ফেও রুপো জিতল ভারত। অদিতি অশোক ও দীক্ষা ডাগরের সঙ্গে প্রণবীর এই সাফল্যে এশিয়াডের মঞ্চে আরও বাড়ল ভারতের পদকসংখ্যা। একই দিনে কুস্তিতেও একাধিক ভারতীয় প্রতিযোগী লড়াইয়ে নামেন। ফলে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় প্রতিযোগিতার শেষ পর্বে ভারতীয় শিবিরে কার্যত উৎসবের আবহ।
গল্ফের মাঠে এ দিন কার্যত ইতিহাস লিখলেন প্রণবী উর্স। মহিলাদের ব্যক্তিগত স্ট্রোক প্লে-তে চার রাউন্ডের লড়াই শেষে ১৫ আন্ডার পার স্কোর নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন তিনি। শেষ রাউন্ডে শুরুটা অবশ্য একেবারেই মসৃণ হয়নি ভারতীয় গল্ফারের। তৃতীয় হোলে ট্রিপল বোগি করে প্রথমে পিছিয়ে পড়েন তিনি। তবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ হোলগুলিতে পার ও বার্ডি করে লড়াইয়ে ফিরে আসেন। শেষ দিকে চিনের ইন রুইনিং এবং সিঙ্গাপুরের শ্যানন টানের সঙ্গে তাঁর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে। শেষ হোলে পার করে এক শটের ব্যবধানে দু’জনকে পিছনে ফেলে সোনা নিশ্চিত করেন প্রণবী। ইন ও শ্যানন দু’জনেই ১৪ আন্ডার পার স্কোর নিয়ে যুগ্ম রুপো জেতেন। এশিয়ান গেমসের মহিলাদের ব্যক্তিগত গল্ফে এই প্রথম কোনও ভারতীয় সোনা জিতলেন। ব্যক্তিগত সোনার পাশাপাশি দলগত ইভেন্টেও রুপো জিতেছেন প্রণবী। অদিতি অশোক ও দীক্ষা ডাগরের সঙ্গে ভারতের মোট স্কোর ছিল ১৪ আন্ডার পার। ২২ আন্ডার পার স্কোর নিয়ে সোনা জেতে চিন।
অন্যদিকে তিরন্দাজিতে কুমকুমের সাফল্যও নিঃসন্দেহে দিনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার ও ইয়ে-জিনের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। শুরু থেকেই দুই প্রতিযোগীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে। পাঁচটি সেটের শেষে দু’জনের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৫-৫। ফলে সোনার পদক নির্ধারণের জন্য টাইব্রেকারের আশ্রয় নিতে হয়। সেখানেই স্নায়ুর চাপ সামলে দুরন্ত শট করেন কুমকুম। প্রতিপক্ষের প্রথম শট ৮ পয়েন্টে আটকে থাকলেও ভারতীয় তিরন্দাজের তির সোজা গিয়ে লাগে ১০-এর ঘরে। তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় সোনা। এই জয়ের সঙ্গে এশিয়াডের মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সোনা জয়ের নজির গড়লেন কুমকুম। পাশাপাশি, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সের জন্য ভারতের একটি ব্যক্তিগত কোটা স্থানও নিশ্চিত হল। এর আগে সেমিফাইনালে চিনের ঝু জিংইয়িকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। এ বার ফাইনালেও চাপের মুখে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে দেশের হয়ে ইতিহাস গড়লেন এই তরুণী।
এ দিন কুস্তিতেও একাধিক ভারতীয় প্রতিযোগী লড়াইয়ে নামেন। পুরুষদের ৫৭ কেজি বিভাগে আমন সেহরাওয়াত জাপানের ইয়ামাতো ওগাওয়াকে ২০-৯ পয়েন্টে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন। পরে কোয়ার্টার ফাইনালে ১২-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালেও পৌঁছন তিনি। ৯৭ কেজি বিভাগে দীপক পুনিয়া চিনের ঝৌ জুনপেংকে ১০-২ পয়েন্টে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠলেও পরের লড়াইয়ে উজবেকিস্তানের শেরজ়োদ পয়োনভের কাছে ৮-৯ ব্যবধানে হারেন। ৭৪ কেজি বিভাগে সাগর জাগলান প্রথমে মঙ্গোলিয়ার প্রতিযোগীকে ৮-১ হারালেও কোয়ার্টার ফাইনালে ইরানের ইয়োনেস ইমামিচোগাইয়ের কাছে ০-১০ ব্যবধানে পরাজিত হন। মহিলাদের ৫৩ কেজি বিভাগে অন্তিম পাঙ্গাল কাজাখস্তানের শুগিলা ওমিরবেককে ৯-০ এবং পরের লড়াইয়ে সাকিবজামাল এস্বোসিনোভাকে ৮-০ হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন। অন্য দিকে, ৫৭ কেজিতে মনীষা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিযোগীকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও জাপানের আকরি ফুজিনামির কাছে ০-৩ ব্যবধানে হারেন। রাগবি সেভেনসে সিঙ্গাপুরকে ২২-৫ হারায় ভারতের মহিলা দল। সব মিলিয়ে ১৪তম দিনে ভারতের পদকসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭। তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা ভারত শেষ দিনে আরও পদক জয়ের লক্ষ্যে নামবে।
