নিত্যদিনের চলতে থাকা দাম্পত্য কলহ শেষমেষ পরিণত হল রক্তারক্তি কান্ডে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে স্ত্রীর। আর সেই সন্দেহে শুরু হয় ঝামেলা। অভিযোগ, গভীর রাত্রে ঘুমন্ত স্ত্রীর গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারেন স্বামী। তারপর নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনাটি নদীয়ার চাকদহ থানার পাবনা কলোনি এলাকার।
ঘটনার দিন অর্থাৎ বুধবার গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে বাড়িতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন অভিযুক্ত গণেশ পোদ্দার। অনুষ্ঠান শেষে বোনের বাড়িতে প্রসাদ দিতে যাওয়ার সময় থেকেই শুরু হয় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বচসা। বাড়ি ফিরে সেই অশান্তি তীব্র আকার ধারণ করে। তারপর স্ত্রী বিনা পোদ্দার ঘুমিয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় কোপ মারেন গণেশ। বিনার চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় বিনাকে দ্রুত উদ্ধার করে তারা চাকদা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার গলায় ও চোখের নিচে গভীর ক্ষত রয়েছে। বর্তমানে তিনি সংকট জনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ করতেন গণেশ। সেই সন্দেহকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই লেগে থাকত অশান্তি। মাঝেমধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হতো। গুরু পূর্ণিমার রাতে ঝামেলা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।
এমত অবস্থায় অভিযুক্ত গণেশ পোদ্দার পালিয়ে না গিয়ে সোজা হাজির হলেন চাকদহ থানায়। সমস্ত ঘটনা পুলিশকে জানিয়ে আত্মসমর্পণ করেন অভিযুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত গণেশ পোদ্দারকে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাম্পত্য কলহ এবং পরকীয়ার সন্দেহের বিষয়টি উঠে এসেছে। ধৃত গনেশ কে কল্যাণী মহাকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চাকদহ থানার পুলিশ।