বাদুড়িয়া: সিপিএমকে নিশানা করতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছেন বিজেপি নেতা কাসেম আলি। বাদুড়িয়ায় একটি প্রকাশ্য সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সিপিএমকে ‘গোখরো সাপ’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দলটির বিরুদ্ধে সামাজিক বয়কটের ডাক দেন। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
সভামঞ্চ থেকে কাসেম আলিকে বলতে শোনা যায়, সিপিএমকে ‘ফণা তোলা গোখরো সাপ’-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি দলটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে লাঠি দিয়ে ‘মাথায় মারার’ কথাও উঠে আসে। একইসঙ্গে সিপিএমের সঙ্গে কোনওরকম আপস না করার এবং সামাজিকভাবে তাদের বয়কট করার আহ্বান জানান তিনি।
বিজেপি নেতার আরও বক্তব্য, সিপিএমের সঙ্গে মেলামেশা, বন্ধুত্ব কিংবা একসঙ্গে বসা উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, বামপন্থীরা ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। সেই কারণেই দলটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বার্তা দেন তিনি।
কাসেম আলির এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণের ইঙ্গিত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সমালোচনা শুরু করেছে সিপিএম। তাদের দাবি, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে মতাদর্শগত বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে হিংসার ভাষা ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সিপিএম নেতা অনিমেষ মুখোপাধ্যায় পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, এ ধরনের ভাষা অতীতেও তৃণমূলের নেতাদের মুখে শোনা গিয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও বিজেপির এক নেতা প্রকাশ্য সভা থেকে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। কাসেম আলির বিরুদ্ধে প্রতিটি থানায় এফআইআর করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রকাশ্য সভায় দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে পুলিশ বা প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।
এদিকে, বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রটি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূল প্রার্থী বুরহানুল মোকাদ্দীন জয়ী হন। বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে ছিল। ফলে নির্বাচনের পরেও এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যথেষ্ট তীব্র।
কাসেম আলির মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে সেই রাজনৈতিক উত্তাপই সামনে এসেছে। এখন প্রশ্ন, তাঁর বক্তব্যের পর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও প্রতিক্রিয়া জানায় কি না এবং প্রশাসনের তরফে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হয় কি না।
