বাঁকুড়া , নিউজ ডেস্ক: পড়ুয়াদের পাতে খাবার তুলে দেওয়ার সরকারি পরিষেবা থমকে গেল বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লকের বাঁকি সেন্দড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। অর্থের অভাবে বেশ কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুলের মিড-ডে মিল পরিষেবা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের বকেয়া টাকা না মেটানোয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই আর্থিক সংকটের পাশাপাশি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতি ও অসহযোগিতার অভিযোগ ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
স্কুলে প্রতিদিন শতাধিক পড়ুয়া মিড-ডে মিলের খাবার খায়। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। তাঁদের কাছ থেকেই স্কুলে সবজি, মশলা-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নেওয়া হত। কিন্তু দীর্ঘদিন টাকা না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর ধারে সামগ্রী দিতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে রান্নার প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকায় বন্ধ রাখতে হয়েছে মিড-ডে মিল।
শুধু খাদ্যসামগ্রীর টাকা নয়, এপ্রিল মাস থেকে রাঁধুনিদের ভাতাও বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ। একাধিকবার বিষয়টি ব্লক ও জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি।
এর মধ্যেই প্রধান শিক্ষক সাধন চন্দ্র পাল বেশ কিছুদিন ধরে স্কুলে অনুপস্থিত। তিনি ছুটিতে রয়েছেন বলে স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর অনুপস্থিতির কারণে প্রশাসনিক কাজকর্ম ও মিড-ডে মিল সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের তরফ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিড-ডে মিল বন্ধ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সমস্যায় পড়েছে স্কুলের পড়ুয়ারা। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের পড়ুয়াদের জন্য স্কুলের এই খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ বিষয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সরকারি প্রকল্পের খাবার কেন দিনের পর দিন বন্ধ থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরাও।
স্কুলে মিড-ডে মিল পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি তুলছেন অভিভাবকেরা। পড়ুয়াদের স্বার্থে এই সমস্ত বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনাটি জানতে পেরে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা দফতর। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাঁকুড়া জেলার স্কুল ইন্সপেক্টর। প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতি, বকেয়া টাকা এবং মিড-ডে মিল বন্ধ থাকার কারণ সব দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
