কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প অটল পেনশন যোজনা। এই যোজনায় বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে মালদা জেলা। সারা দেশের মধ্যে এই জেলা দ্বিতীয় স্থানে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই একমাত্র জেলা হিসেবে প্রথম পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে মালদা। এতেই খুশির হাওয়া গোটা জেলায়। এবার দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে মালদা জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর মিলেছে, চলতি বছরের ১-লা জুন থেকে ২৭ শে জুলাই পর্যন্ত মালদা জেলায় মোট ১২ হাজার ৪৯ জন অটল পেনশন যোজনায় নাম নথিভুক্ত করেছেন। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার নিরিখে যা ২৭৫ শতাংশ সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের প্রথম পাঁচ জেলার তালিকায় প্রথম চারে বিহারের নাম থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালদা জেলা। এই সাফল্যকে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছে মালদা জেলা প্রশাসন।
কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুসারে অটল পেনশন যোজনার আওতায় ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি ভারতীয় নাগরিকরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ৬০ বছর বয়সের পর মাসিক ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পেতে পারেন। উপভোক্তার মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীও এই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী থাকেন। এই যোজনা বৃদ্ধ ও অবসরপ্রাপ্তদের জন্য খুবই কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে মালদার জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর বলেন, জেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও নিয়মিত সচেতনতামূলক শিবির আয়োজন করা হয়। এর জন্য বিভিন্ন ব্যাংক সহযোগিতা করে। এমনকি শনিবার ও রবিবারও বিশেষ ক্যাম্প চলছে, যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ এই প্রকল্পে যুক্ত হতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে বিশেষ বৈঠক করা হচ্ছে এই প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে খুব শীঘ্রই অটল পেনশন যোজনার নথিভুক্তিতে মালদা দেশের শীর্ষস্থান দখল করবে আশা করছেন তিনি।
প্রবীণ নাগরিক ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বৃদ্ধকালীন সময়ের কথা চিন্তা করে অটল পেনশন যোজনা চালু করেছে সরকার। এর মধ্যে দিয়ে শেষ বয়স পর্যন্ত পেনসন পাবেন উপভোক্তরা। সরকারিভাবে এই প্রকল্পকে বাস্তবের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অগ্রণীর ভূমিকা পালন করছে মালদা জেলা প্রশাসন।