নিউজ ডেস্ক: ব্রুহাত বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকে (বিবিএমপি) অর্থাৎ বেঙ্গালুরু পুরসভার কাজে নিয়োগ করা হয়েছে একাধিক অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে। সম্প্রতি একটি ভিডিয়ো ফুটেজকে কেন্দ্র করে এমন দাবিই ছড়িয়ে পড়েছিল সমাজ মাধ্যমে। ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বেঙ্গালুরুর নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও। তবে এ বার প্রশাসনের তরফে যে তথ্য সামনে এল, তাতে আটক হওয়া ব্যক্তিরা যে বিবিএমপি-র স্থায়ী কর্মী ছিলেন, এমন কোনও তথ্য মেলেনি। তাঁদের অধিকাংশই চুক্তিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা অন্য অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
এ দিকে এর মধ্যেই বেঙ্গালুরু শহর পুলিশের তরফে শুরু হয়েছে ‘অপারেশন মুক্তা’। মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে শহরের বিভিন্ন বর্জ্য পৃথকীকরণ কেন্দ্র এবং বস্তি এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযানের অংশ হিসাবে প্রায় ১,৯০০ জনের পরিচয়পত্র ও নথি যাচাই করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বৈধ নথি ছাড়া থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। তাঁদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
অবৈধ উপায়ে এ দেশে ঢোকার পর অনেকেই যে স্থানীয় দালালদের সাহায্যে ভারতীয় পরিচয়পত্র জোগাড় করতেন, তদন্তে উঠে এসেছে এমন অভিযোগও। প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আধারের মতো নথি তৈরি করে দেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় ছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি। সেই নথির সাহায্যে বেঙ্গালুরুতে বিভিন্ন বেসরকারি আবর্জনা সংগ্রহ কেন্দ্র কিংবা নির্মাণক্ষেত্রে কম মজুরির কাজে যোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুধু অনুপ্রবেশ নয়। জাল নথি তৈরির চক্র নিয়েও শুরু হয়েছে তদন্ত।
ঘটনার পর পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাপনাটি আরও কড়া করার পথে হাঁটছে পুরসভা তথা প্রশাসন। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে পুলিশ এও জানিয়েছে যে, কোথাও কোনও সন্দেহজনক অনুপ্রবেশকারী বা জাল নথির হদিস মিললে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। সরাসরি পুলিশকে খবর দিতে হবে ১১২ নম্বরে। ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে নানা দাবি ছড়ালেও, প্রশাসনিক তদন্তে প্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি দেখার বার্তা দিয়েছে পুলিশ।