নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’-এর নামে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বৃহস্পতিবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্ক।
‘আমাদের ভোট বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পথে নামল ককরোচ জনতা পার্টি। প্রতিবাদ মঞ্চে উপস্থিত হয়ে অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও বিশিষ্ট ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী সরাসরি আঙুল তুললেন দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতার দিকে। গোটা প্রক্রিয়াটিকে সোজাসাপ্টা ‘ভোট চুরি’ আখ্যা দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছে আন্দোলনকারীরা।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ অক্টোবরের মহাবিক্ষোভের ঠিক মুখে এ দিন বেঙ্গালুরুর জমায়েত ছিল বিরোধী স্বর ও নাগরিক সমাজের শক্তিপ্রদর্শনের বড় ক্ষেত্র। সকাল থেকেই ফ্রিডম পার্কে জড়ো হন কর্নাটকের নানা প্রান্ত থেকে আসা ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। মঞ্চে ভিডিও প্রমাণের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়, কীভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ার গেরোয় সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ভোটারদের নামও রাতারাতি তালিকা থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধ্রুব রাঠী বলেন, “আমি এখানে ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য আসিনি।” এরপরই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ প্রকাশ করে বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের তরফে “জিরো ট্রান্সপারেন্সি, জিরো অ্যাকাউন্টেবিলিটি”— অর্থাৎ কোনও স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি নেই। ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া ও সংযোজন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাঠী। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার জবাব দিতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। তিনি আরও বলেন, ভোট দেওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। আন্দোলন মঞ্চে রাঠীকে “Vote chor, gaddi chhod” স্লোগান তুলতেও দেখা যায়।
বিক্ষোভের অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “গোটা দেশের ভোটারদের চূড়ান্ত অপমান করা হয়েছে। পাঁচ বছরে মাত্র একবার এই রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের দুয়ারে হাতজোড় করে ভোট চাইতে আসে। আর আজ নিজেদের মৌলিক ভোটাধিকার ফিরে পেতে সাধারণ মানুষকে সরকারি দপ্তরের দরজায় দরজায় ভিক্ষা করতে বাধ্য করা হচ্ছে!” তিনি বলেন, কমিশন দেশের মানুষের নাগরিক সত্তাকে লঘু করে দেখছে।
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, কেবল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফায় ক্ষান্ত হবেন না তাঁরা। এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে প্রত্যাহার করে আগের তালিকা বহাল রাখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে নিয়মিত মামলা রুজু করতে হবে। আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়াতে এ দিন প্রতীকী ‘চপ্পল প্রতিবাদ’-এর কর্মসূচিও রাখা হয়।
সমাবেশে উপস্থিত সৌরভ দাস জানান, নির্বাচন কমিশন ও নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সচেতন নাগরিকরা আজ ঐক্যবদ্ধ। এআইএসএ-র মতো ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি জেএনইউ-এর প্রাক্তন নেত্রী ঐশী ঘোষ, নেহা বোরা-সহ একাধিক যুব ও নাগরিক প্রতিনিধিরা এই জমায়েতে সংহতি জানান।
