নেপাল, নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। ভোতে কোশি নদীর জলোচ্ছ্বাসে রসুয়া জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এর জেরে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ কার্যত ধাক্কা খেয়েছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে ১২টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। সব মিলিয়ে ওই কেন্দ্রগুলির উৎপাদন ক্ষমতা ৪৩১.১ মেগাওয়াট। শুধু চালু থাকা প্রকল্প নয়, নির্মীয়মাণ একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও বন্যার কবলে পড়েছে। পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বণ্টন ব্যবস্থা সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে নেপাল প্রশাসন।
নেপালের জ্বালানি, জলসম্পদ ও সেচমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড আপাতত স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (NEA)-কে উচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নির্মীয়মাণ ১৫টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৪৭০ মেগাওয়াট।
বন্যার ধাক্কা শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নেই। ত্রিশুলি ২২০ কেভি 3B হাব সাবস্টেশন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক ১৩২ কেভি, ৬৬ কেভি এবং ২২০ কেভি সঞ্চালন লাইন ও টাওয়ারও। এর ফলে রসুয়া জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। নুওয়াকোট, ধাদিং এবং গোরখা জেলার বিস্তীর্ণ অংশেও দেখা দিয়েছে আংশিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়। পরিকাঠামোর এই ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত মেরামত করা না গেলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে নিখোঁজের সংখ্যা। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ১৯৬ জন কর্মী ও শ্রমিকের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। তাঁদের উদ্ধারে তল্লাশি চলছে। ভয়াবহ বন্যায় ইতিমধ্যেই বহু মানুষ নিখোঁজ এবং প্রাণহানির খবর সামনে এসেছে। উদ্ধারকারী দলগুলি দুর্গম এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। প্রশাসনের সামনে এখন একদিকে নিখোঁজদের উদ্ধার, অন্য দিকে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ পরিকাঠামো সচল করার দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। ভোটে কোশির এই বিপর্যয় নেপালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছে, তা আগামী কয়েক দিনেই আরও স্পষ্ট হবে।