আবারো খবরের শিরোনামে বীরভূম। গুলি চালানোর ঘটনায় ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূম জেলা জুড়ে। রবিবার রাতের অন্ধকারে হঠাৎ-ই পরপর গুলির শব্দে কেঁপে উঠল বীরভূমের নলহাটি এলাকা। দুষ্কৃতীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে গুরুতর জখম হলেন তিন জন পাথর ব্যবসায়ী। ঘটনাটি ঘটেছে নলহাটি থানার অন্তর্গতহরিদাসপুর গ্রামের কাছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদের নাম বিকি শেখ, জনি শেখ এবং হাবিবুল শেখ। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে একাধিক কার্তুজের খোল উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে ঘটনার তদন্ত।
এইদিনের গুলি চালানোর ঘটনা ঠিক যেন সিনেমার মতোই ছিল স্থানীয়দের কাছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার রাত ১১টা নাগাদ বিকি, হাবিবুল এবং জনি হরিদাসপুর গ্রামের কাছে একটি বাঁশের মাচার উপর বসেছিলেন। ঠিক সেই সময়েই একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মত তিনটি মোটরবাইকে চেপে সেখানে হাজির হয় একদল দুষ্কৃতী। সকলের মুখই কাপড়ে ঢাকা ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই তিন জনকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে তারা। অভিযোগ, প্রায় ১১ রাউন্ড গুলি চালানো হয় রাতের অন্ধকারে। একাধিক গুলি লাগে জনি এবং বিকির শরীরে। অন্য দিকে, একটি গুলি হাবিবুলের কাঁধ ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়।এই ঘটনায় রীতিমত আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় তিন জনকে উদ্ধার করে প্রথমে নলহাটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরবর্তীতে বিকি ও জনির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাদের দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, জনির অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। সোমবার সকালে তার অস্ত্রোপচারও সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, হাবিবুলের চিকিৎসা চলছে রামপুরহাটেই। খবর পেয়েই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নলহাটি থানার পুলিশ। সেখান থেকে ১০টি কার্তুজের খোল এবং একটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, আহত তিন জনই নলহাটির পাথর শিল্পাঞ্চলে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাই ব্যবসায়িক কোনো পুরনো শত্রুতার জেরেই এই হামলার ঘটনা কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের তরফে এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।