ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এবার নিজেদের সংগঠনের অন্দরেও শুদ্ধি অভিযান শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। দলের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি, প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়, ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি, সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে প্রায় ১৫০ জন কর্মী ও নেতাকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের জবাব সন্তোষজনক না হলে সাংগঠনিক স্তরে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই দলীয় সূত্রের দাবি।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, এমনকি দলেরই একাংশের তরফে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ছিল। কোথাও সরকারি প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ, কোথাও আবার দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে। সেই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখেই সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, শুধুমাত্র শোকজ নোটিস পাঠিয়েই দায় সেরেছে নেতৃত্ব, এমন নয়।
অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত বা দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। আরও কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চলছে। রাজ্য নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, বিজেপির পতাকা বা সরকারের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি কিংবা বেআইনি অর্থ আদায় কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতি করার পর ক্ষমতায় আসা যে কোনও দলের কাছেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সংগঠনের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে নানা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। সেই কারণেই প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করছে বিজেপি। সংগঠনের ভাবমূর্তি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিরোধী দলগুলির দাবি, শোকজ নোটিস পাঠানোই যথেষ্ট নয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা সামনে আসতেই বিজেপি এখন ভাবমূর্তি বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা দাবি, অভিযোগ সামনে আসার পর তা ধামাচাপা না দিয়ে দল নিজেই ব্যবস্থা নিচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদমর্যাদা বা সাংগঠনিক গুরুত্ব না দেখে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর এই ধরনের পদক্ষেপ বিজেপির কাছে শুধু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, আগামী দিনের রাজনৈতিক বার্তাও।
কারণ, দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছে দল। ফলে সেই প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে নিজেদের ঘর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করাটা বিজেপির কাছে কার্যত রাজনৈতিক প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।