নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার কোনও সিদ্ধান্ত নিল না কলকাতা হাই কোর্ট। সিবিআইয়ের আবেদন শুনে বিচারপতি অমৃতা সিংহের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, চাইলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে। আদালতের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানির উপর ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে হাই কোর্টের পক্ষে SIT ভাঙার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
রাজ্যের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পুরসভায় নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে সিবিআই। এই তদন্তের জন্য ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে এই দলই নিয়োগ দুর্নীতির বিভিন্ন মামলার তদন্ত চালিয়ে আসছে।
তবে সম্প্রতি SIT-এর কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত মাসে হাই কোর্টে আবেদন করে সিবিআই জানায়, SIT-এর হাতে থাকা অধিকাংশ মামলার তদন্ত ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ফলে এখন আর পৃথক SIT রাখার প্রয়োজন নেই। বাকি তদন্ত সিবিআইয়ের দুর্নীতিদমন শাখা বা Anti-Corruption Branch-এর আধিকারিকদের দিয়েই চালানো সম্ভব বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মঙ্গলবার আদালতে সিবিআইয়ের হয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে SIT কাজ করছে। এই সময়ের মধ্যে দলের বেশ কিছু আধিকারিক অবসর নিয়েছেন, আবার কয়েক জনের পদোন্নতিও হয়েছে। কিন্তু তাঁরা SIT থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বেরোতে না পারায় প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই SIT ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে সিবিআইয়ের বক্তব্য।
তবে আদালত তদন্তের বর্তমান অবস্থাও জানতে চায়। বিচারপতি অমৃতা সিংহ প্রশ্ন করেন, তদন্ত বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী কী তথ্য উঠে এসেছে। অর্থাৎ SIT তুলে দিলে বাকি তদন্ত কীভাবে এবং কোন কাঠামোয় এগোবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, মামলার মূল আবেদনকারীদের আইনজীবীরা সিবিআইয়ের এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাঁদের বক্তব্য, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত তদন্ত এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেই অবস্থায় SIT ভেঙে দেওয়া হলে তদন্তের গতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ফিরদৌস শামিম আদালতে প্রশ্ন তোলেন, তদন্ত সম্পূর্ণ না করেই যদি SIT তুলে দেওয়া হয়, তাহলে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করার প্রয়োজনই বা কেন হয়েছিল। তাঁদের মতে, তদন্তের বাকি অংশ দ্রুত শেষ করার দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পরও SIT ভাঙার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত। বিচারপতি সিংহ জানান, বিষয়টি আপাতত শুনানির তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিবিআই চাইলে এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারে।
ফলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে SIT-এর ভবিষ্যৎ এখন নতুন করে আইনি প্রশ্নের মুখে। সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে যায় কি না এবং গেলে শীর্ষ আদালত কী নির্দেশ দেয়, তার উপরই পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে। এদিকে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত বাকি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির অগ্রগতির দিকেও নজর রয়েছে চাকরিপ্রার্থী ও মামলাকারীদের।
