নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়ায় দলীয় কর্মীসভা। আর সেখান থেকেই রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের একের পর এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সোমবারের ‘ব্ল্যাকআউট’ মন্তব্যের পর মঙ্গলবার তিনি অতিবামপন্থী ও যাঁদের তিনি ‘দেশদ্রোহী’ বলে উল্লেখ করেছেন, তাঁদের প্রসঙ্গে ‘কার্বলিক অ্যাসিড’ ব্যবহারের কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের এই অংশই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে।
কাঁকিনাড়ার পাণপুর মোড়ে দলীয় কর্মীদের সভায় বক্তব্য রাখছিলেন অর্জুন সিং। সেখানেই তিনি বামপন্থীদের আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, বামপন্থীরা দেশের স্বার্থের কথা ভাবেনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কার্ল মার্কস ও লেনিনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন।
এরপর মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তুলে অর্জুন সিং বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ‘ভদ্রলোক’ বলেই আইনের পথে সমস্যার সমাধান করতে চান। কিন্তু যাঁরা তাঁর ভাষায় ‘পাকিস্তানের স্লোগান’ দেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই সাপ তাড়ানোর সঙ্গে তুলনা টেনে কার্বলিক অ্যাসিডের কথা বলেন।
অর্জুন সিংয়ের বক্তব্যের আরও একটি অংশে উঠে আসে ‘ব্ল্যাকআউট’-এর প্রসঙ্গ। সোমবার তিনি SRFTI-কে ঘিরে চলা বিক্ষোভের প্রসঙ্গে ‘কিছুক্ষণ ব্ল্যাকআউট’ করার মন্তব্য করেছিলেন বলে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। পরদিনের সভায় সেই বক্তব্যের সঙ্গেই নতুন করে ‘কার্বলিক অ্যাসিড’-এর প্রসঙ্গ জুড়ে দেন তিনি।
কেন কার্বলিক অ্যাসিডের প্রসঙ্গ?
কার্বলিক অ্যাসিড আসলে ফেনল (Phenol) নামে পরিচিত একটি রাসায়নিক পদার্থ। অতীতে জীবাণুনাশক হিসেবে এর ব্যবহার ছিল। তীব্র গন্ধের কারণে বহুদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে এই রাসায়নিক ব্যবহার করলে সাপ দূরে থাকে। তবে আধুনিক তথ্য অনুযায়ী, কার্বলিক অ্যাসিডকে নির্ভরযোগ্য সাপ-প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
অর্থাৎ রাজনৈতিক বক্তব্যে যে উপমাটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি মূলত প্রচলিত ‘কার্বলিক অ্যাসিডে সাপ তাড়ানো যায়’ ধারণার উপর নির্ভরশীল। বাস্তবে সাপ নিয়ন্ত্রণে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ইঁদুর-ব্যাঙের মতো খাদ্যের উৎস নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী বা বন দফতরের সাহায্য নেওয়াকে বেশি কার্যকর বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন।
কুণাল ঘোষকে নিয়ে কী বললেন?
এদিনের সভায় তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে ডিম ছোড়ার ঘটনাও প্রসঙ্গে আসে। সেই ঘটনা নিয়ে অর্জুন সিং প্রশ্ন তোলেন এমন কোনও ডিম রয়েছে কি না, যার আঘাতে গাড়ির কাচ ভেঙে যেতে পারে বা কাউকে হত্যা করা সম্ভব। বিষয়টি শুনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
অর্জুনের এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে শাসক-বিরোধী তরজাও তীব্র হচ্ছে। ফলে তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ‘দেশদ্রোহী’ বা ‘অতিবামপন্থী’ এই ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা অভিযোগকে কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না, যদি না নির্দিষ্ট তথ্য বা আইনি প্রমাণ থাকে। একইভাবে কোনও রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য এবং তার বাস্তব প্রয়োগ দুই বিষয়কেই আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
এখন নজর থাকবে, অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কতটা বাড়ে এবং সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এর কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্রতিবাদ আসে কি না।
