রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকারের পর আরো তৎপর সিবিআই। এবার বেলেঘাটার বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা অভিযুক্ত বিশাল পাল ওরফে গোপাল দাসকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই। দীর্ঘদিন ধরে গা ঢাকা দিলেও শেষ রক্ষা হল না। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের রবীন্দ্রনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিবিআইয়ের এসসিবি কলকাতা টিম। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সিবিআই এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
সিবিআই সূত্রে খবর, এই মামলায় বিশাল পালকে ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল তাকে। তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩-রা এপ্রিল ট্রায়াল কোর্ট থেকে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে গা ঢাকা দিয়ে ছিল সে। তারপর থেকেই তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল তদন্তকারী সংস্থা। রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পর আরো তৎপর হয় পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা।
এর আগে অভিজিৎ সরকার খুনের ঘটনায় আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। ধৃতের নাম অরূপ দাস। তার খোঁজে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। জানা যায়, পরিচয় গোপন করে আসামে রেলের কোচ অ্যাটেন্ড্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অসমে হানা দিয়ে অরূপকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেখানেই তাকে পাকড়াও করা হয় বলে খবর। পরে ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ওঠে। সেই সময়ই কাঁকুড়গাছিতে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। যার মূল অভিযুক্ত ছিল গোপাল। পরিবারের দাবি, তাকে তার পেঁচিয়ে এবং পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল। মৃত্যুর আগে ফেসবুক লাইভে বাঁচার আর্জি জানিয়েছিলেন অভিজিৎ তবে এরপর থেকে মূল অভিযুক্ত ফেরার ছিল। তদন্ত ভার নেয় সিবিআই। মূল অভিযুক্তের খোঁজে অভিযান চালিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
জানা গিয়েছে, বিজেপি কর্মী মৃত্যুর ঘটনায় তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল-সহ একাধিক নেতার নাম জড়ায়। প্রথমে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল নারকেলডাঙা থানার পুলিশ। কিন্তু তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। এরপর এক এক করে গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্তরা। তবে কান টানলে মাথা আসে কি না সেই দিকে তাকিয়ে সকলে।