রাত পোহালেই উল্টো রথ। তার আগের দিন রাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার একেবারে ব্যস্ত তার সফর সূচি। একদিকে মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ রেলগেটের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি, অন্যদিকে সন্ধ্যায় হুগলির গুপ্তিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী ‘ভাণ্ডার লুট’ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রে মারফত জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে মুর্শিদাবাদ পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে বহরমপুর থানায় গিয়ে কর্ণসুবর্ণ রেলগেট দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রশাসনের তরফে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনাও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। ইতিপূর্বেই তিনি এই ঘটনার তদন্তে করা বার্তা দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বহরমপুরের এই রেল দুর্ঘটনার পরেই রেলের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে। এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। সেই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজ নিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী বলে জানা গিয়েছে।
এই কর্মসূচি শেষ করার পরেই বিকালে আরো একটি কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। মুর্শিদাবাদ থেকেই হুগলির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি। বিকেল ৪টা নাগাদ প্রথমে ঐতিহ্যবাহী বৃন্দাবন জিউ মন্দিরে পুজো ও দর্শন করবেন। এরপর জগন্নাথদেবের মাসির বাড়িতে গিয়ে বহু শতাব্দী প্রাচীন 'ভাণ্ডার লুট' অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব গুপ্তিপাড়ার 'ভাণ্ডার লুট' উৎসব। প্রতিবছর উল্টো রথের আগের দিন এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয় মহা ধুমধামের সঙ্গে। বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। আর এই বছর এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। একেবারে সাঁজো সাঁজো রব চারিদিকে।
একদিনে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও অন্যদিকে ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। দুই কর্মসূচিতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরসূচি যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।