ছাত্র আন্দোলন নিয়ে লেখিকা তসলিমা নাসরিনের মন্তব্যের পালটা জবাব দিলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) মুখ্য সংগঠক অভিজিৎ দীপকে। তসলিমা বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, ছাত্ররা আন্দোলন করলেই যে তার পরিণতি সবসময় ভালো হবে, এমনটা নয়। এবার সেই মন্তব্যের জবাবে অভিজিৎ দাবি করলেন, তাঁদের আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশ বা নেপালের ছাত্র আন্দোলনের তুলনা করা ঠিক নয়।
কলকাতায় বসে তসলিমা নাসরিন জানিয়েছিলেন, সিজেপির আন্দোলনের একটি ভিডিও দেখে তাঁর বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যায়। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেকেই ভেবেছিলেন, ছাত্রদের মূল দাবি ছিল কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা। সেই দাবি মেনে নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকারের পতন হয়। পরে আন্দোলনের নেপথ্যে উগ্রপন্থীদের ভূমিকার অভিযোগ সামনে আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তসলিমার মতে, সেই আন্দোলনের ফল বাংলাদেশের জন্য ভালো হয়নি।
তসলিমার এই মন্তব্যের পরেই প্রতিক্রিয়া জানান অভিজিৎ দীপকে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে বাংলাদেশ বা নেপালের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে শুধুমাত্র তাঁদের বদনাম করার উদ্দেশ্যে। তাঁদের সংগঠন সম্পূর্ণ আলাদা বলেই দাবি করেন তিনি।
অভিজিৎ জানান, ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পথচলা শুরু করেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। পরে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর সংগঠনের দায়িত্বও বেড়েছে। আগামী দিনে সংগঠনের পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তুলেছেন অভিজিৎ। তাঁর হুঁশিয়ারি, এই দাবিতে অবিলম্বে পদক্ষেপ না করা হলে ফের বড় আন্দোলনে নামতে পারে সিজেপি।
এদিকে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের নেপথ্যে বিদেশি মদত এবং রাজনৈতিক উসকানির অভিযোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিজিতের পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিদেশে তাঁর পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাড় হয়েছিল, তা নিয়ে আরটিআইয়ের মাধ্যমে তথ্য চাওয়ার কথাও সামনে এসেছে। তবে অভিজিতের দাবি, বাবার টাকায় নয়, মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি পেয়েই তিনি আমেরিকায় পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। প্রয়োজনে সেই সংক্রান্ত শংসাপত্রও দেখাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
তসলিমার অভিযোগ অবশ্য সরাসরি অস্বীকার করেছেন ‘ককরোচ’ নেতা। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও চরিত্র অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।